নতুন পথে বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের সামনে চার কঠিন চ্যালেঞ্জ

বাংলাদেশে ইউনুস যুগের অবসান ঘটিয়ে এক নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে। নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়লাভের পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিতে চলেছেন বিএনপি নেতা তারেক রহমান। ১৭ বছরের প্রবাস জীবন শেষে তাঁর এই প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে জনমনে যেমন ব্যাপক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তেমনি রাষ্ট্র পরিচালনায় তাঁর সামনে পাহাড়প্রমাণ চ্যালেঞ্জও রয়েছে। বিশেষ করে গত ১৮ মাসের অস্থিরতা কাটিয়ে দেশকে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরিয়ে আনাই এখন নতুন সরকারের মূল লক্ষ্য।
বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের সাফল্যের চাবিকাঠি লুকিয়ে আছে চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর। প্রথমত, ভেঙে পড়া আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা এবং মব কালচার ও সাম্প্রদায়িক সহিংসতা বন্ধ করে জনমনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। দ্বিতীয়ত, ভঙ্গুর অর্থনীতি ও ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে এনে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা। তৃতীয়ত, প্রতিবেশী দেশসহ আন্তর্জাতিক মহলের সঙ্গে নষ্ট হওয়া কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনর্গঠন এবং চতুর্থত, দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রেখে ইতিবাচক ও সহনশীল রাজনীতির দৃষ্টান্ত স্থাপন করা।
খালেদাপুত্র তারেক রহমানের সামনে এখন নিজেকে প্রমাণের শ্রেষ্ঠ সুযোগ। আওয়ামী লীগ বিহীন এই সংসদে উগ্রবাদ দমন এবং মধ্যপন্থার রাজনীতি বজায় রাখা তাঁর জন্য হবে এক অগ্নিপরীক্ষা। অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে তিনি যদি একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও স্থিতিশীল বাংলাদেশ গড়তে পারেন, তবেই এই ল্যান্ডস্লাইড বিজয় সার্থক হবে। বিশ্বনেতাদের নজর এখন ঢাকার দিকে—তারেক রহমানের ‘ব্লু-প্রিন্ট’ দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে কতটা স্থিতিশীলতা আনে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।