একই বই পড়ে জয়েন্ট এন্ট্রান্সে দুই যমজ ভাইয়ের হুবহু এক নম্বর পাওয়ার চমকপ্রদ কাহিনী

একই বই পড়ে জয়েন্ট এন্ট্রান্সে দুই যমজ ভাইয়ের হুবহু এক নম্বর পাওয়ার চমকপ্রদ কাহিনী

ইঞ্জিনিয়ারিং প্রবেশিকা পরীক্ষা বা জেইই মেন (JEE Main) ২০২৬-এর প্রথম সেশনের ফলাফল প্রকাশিত হতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে। ওড়িশার ভুবনেশ্বরের দুই যমজ ভাই, মসরুর আহমেদ খান এবং মহরুফ আহমেদ খান তৈরি করেছেন এক অবিশ্বাস্য ইতিহাস। কেবল দুজনেই পরীক্ষায় সফল হয়েছেন তাই নয়, তাঁদের প্রাপ্ত নম্বর এবং পার্সেন্টাইলও একেবারে হুবহু এক। ৩০০ নম্বরের পরীক্ষায় দুজনেই পেয়েছেন ২৮৫ এবং তাঁদের পার্সেন্টাইল স্কোর ৯৯.৯৯।

মা ছেড়েছেন সরকারি ডাক্তারি চাকরি

এই দুই ভাইয়ের সাফল্যের পিছনে রয়েছে তাঁদের মায়ের এক বিশাল আত্মত্যাগ। দুই ছেলেকে উপযুক্ত শিক্ষা দেওয়ার জন্য এবং তাঁদের প্রস্তুতির দেখাশোনা করতে নিজের সরকারি চিকিৎসকের চাকরি ছেড়ে দিয়েছিলেন তাঁদের মা। গত তিন বছর ধরে রাজস্থানের কোটায় ছেলেদের সঙ্গে থেকেছেন তিনি। আজ ছেলেদের এই অভাবনীয় সাফল্যে আবেগপ্রবণ হয়ে মা জানান, এই জয় পুরোপুরি ছেলেদের কঠোর পরিশ্রমের ফসল।

এক বই এক চশমার নম্বর এমনকি জুতোও এক

মসরুর এবং মহরুফের এই কাহিনী শুধু পরীক্ষার নম্বরেই সীমাবদ্ধ নয়। তাঁদের জীবনযাত্রাও অবাক করার মতো। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, ছোটবেলা থেকেই তাঁদের পছন্দ-অপছন্দ থেকে শুরু করে জীবনযাপনের ধরনও এক। এমনকি তাঁদের চশমার পাওয়ার এবং জুতোর মাপও এক। সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো, তাঁরা আলাদা আলাদা বই ব্যবহার না করে সবসময় একই বই থেকে একসঙ্গে পড়াশোনা করেন। এমনকি সিলেবাসের বাইরে কিছু পড়ার দরকার হলেও তাঁরা একটাই বই কেনেন।

কোটার কোচিংয়েও চলত লড়াই

মহরুফ জানান, কোটায় প্রস্তুতির সময় মক টেস্টগুলোতে কখনও তিনি বেশি নম্বর পেতেন, আবার কখনও মসরুর। কিন্তু ফাইনাল রেজাল্টে যে দুজনের নম্বর একেবারে দশমিকের ঘর পর্যন্ত মিলে যাবে, তা তাঁরা কল্পনাও করেননি। দশম শ্রেণি থেকেই কোটায় থেকে জেদ নিয়ে পড়াশোনা শুরু করেছিলেন এই দুই ভাই। একজন ভেঙে পড়লে অন্যজন তাঁকে সাহস জুগিয়েছেন। দুই যমজ ভাইয়ের এই রূপকথার মতো সাফল্য এখন নেটপাড়ায় চর্চার কেন্দ্রবিন্দু।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *