এআই দুনিয়ায় ভারতের দাপট শুরু, টাটা-র হাত ধরে তৈরি হচ্ছে বিশ্বের বৃহত্তম ডাটা সেন্টার

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা এআই-এর দুনিয়ায় এবার বিশ্বকে নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত ভারত। রাজধানী দিল্লিতে আয়োজিত ‘এআই ইমপ্যাক্ট সামিট ২০২৬’-এ উঠে এল এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস বা টিসিএস (TCS) ভারতে তৈরি করতে চলেছে বিশ্বের বৃহত্তম এবং অত্যাধুনিক এআই ডাটা সেন্টার। যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘হাইপারভোল্ট’।
কেন এই ডাটা সেন্টার বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ
টিসিএস-এর এই নতুন উদ্যোগ কেবল একটি ভবন নয়, এটি হবে বিশ্বমানের একটি এআই পরিকাঠামো। হাইপারভোল্ট মূলত হাইপারস্কেলার এবং এআই-চালিত এন্টারপ্রাইজগুলোর জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। এর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:
- লিকুইড কুলিং সিস্টেম: এআই ওয়ার্কলোডের সময় তৈরি হওয়া অতিরিক্ত তাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য এতে থাকছে উন্নত লিকুইড কুলিং প্রযুক্তি।
- হাই র্যাক ডেনসিটি: কম্পিউটিং পাওয়ার বা গণনার ক্ষমতা সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যেতে বিশেষ স্থাপত্য ব্যবহার করা হয়েছে।
- পরিবেশবান্ধব আর্কিটেকচার: স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে এটি হবে সম্পূর্ণ এনার্জি-এফিশিয়েন্ট বা শক্তি-সাশ্রয়ী।
ডাটা সেন্টার হাবে পরিণত হচ্ছে ভারত
বর্তমানে ভারতে ডাটা সেন্টারের ক্ষমতা প্রায় ১.৫ গিগাওয়াট। তবে ২০৩০ সালের মধ্যে এই ক্ষমতা ১০ গিগাওয়াট ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। ২০১৯ সাল থেকে এই খাতে প্রায় ৯৪ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ এসেছে, যা ভারতের দ্রুত প্রযুক্তিগত উন্নয়নের প্রমাণ দেয়।
ডিজিটাল বিপ্লবে টিসিএস-এর ভূমিকা
টিসিএস কেবল পরিকাঠামো তৈরি করছে না, বরং গ্লোবাল এআই ট্রান্সফরমেশনে নিজেদের সবার আগে রাখছে। সংস্থাটি বিভিন্ন হাইপারস্কেলার এবং এআই কো ম্পা নিগুলোর সঙ্গে একযোগে কাজ করবে যাতে নিরবচ্ছিন্ন ডাটা ফ্লো এবং অত্যন্ত কম ল্যাটেন্সি পারফরম্যান্স নিশ্চিত করা যায়। টাটার এই মেগা প্রজেক্ট ভারতকে গ্লোবাল এআই ম্যাপে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।