তারেক রহমানকে চাপে রাখতে মরিয়া বিরোধীরা, বাংলাদেশে কি এবার তৈরি হচ্ছে সমান্তরাল সরকার

বাংলাদেশে দীর্ঘ সময় পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় বসেছে বিএনপি। দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান আজ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে চলেছেন। বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করলেও স্বস্তিতে নেই নতুন প্রশাসন। তারেক সরকারকে প্রতিটি পদক্ষেপে চ্যালেঞ্জ জানাতে এবার ‘শ্যাডো ক্যাবিনেট’ বা ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের তোড়জোড় শুরু করেছে বিরোধী দলগুলো।
জামায়াতে ইসলামী ও ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির (এনসিপি) মতো দলগুলো এই পরিকল্পনার মূলে রয়েছে। উল্লেখ্য, এবারের নির্বাচনে বিএনপি একাই ২১২টি আসন পেলেও জামায়াত ও এনসিপি-সহ ১১ দলের বিরোধী জোট ৭৭টি আসন পেয়েছে। সংখ্যায় কম হলেও সংসদের ভেতরে ও বাইরে সরকারকে কড়া নজরদারিতে রাখাই তাদের মূল লক্ষ্য।
শ্যাডো ক্যাবিনেট আসলে কী
মূলত ব্রিটিশ পার্লামেন্টারি ব্যবস্থায় এই ছায়া মন্ত্রিসভার চল রয়েছে। যেখানে সরকারের প্রতিটি মন্ত্রীর বিপরীতে বিরোধীদের একজন করে নির্দিষ্ট প্রতিনিধি থাকেন। সরকারের প্রতিটি নীতি ও কাজের চুলচেরা বিশ্লেষণ এবং সমালোচনা করাই এই ক্যাবিনেটের কাজ। এনসিপি মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ শোয়েব এবং জামায়াত নেতা শশী মুনির ইতিমধ্যেই এই ছায়া সরকার গঠনের ইঙ্গিত দিয়েছেন।
কেন বাড়ছে উদ্বেগ
বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে এর আগে কখনও ছায়া মন্ত্রিসভার অস্তিত্ব ছিল না। সংবিধান বা কার্যপ্রণালীর বিধিতেও এর কোনো স্পষ্ট উল্লেখ নেই। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, এনসিপি বা জামায়াতের মতো দলগুলো এই ছায়া মন্ত্রিসভাকে ব্যবহার করে একটি ‘সমান্তরাল সরকার’ চালানোর চেষ্টা করতে পারে। এতে নবনির্বাচিত সরকারের কাজে বাধা সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে ভারতের পক্ষ থেকে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা উপস্থিত থাকলেও, দেশের অন্দরে এই নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণ তারেক রহমানের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।