পরকীয়া ও বন্ধুত্বের চরম বিশ্বাসঘাতকতা, পূর্ব বর্ধমানে যুবক খুনের ঘটনায় স্ত্রী ও বন্ধু গ্রেপ্তার

পূর্ব বর্ধমানের দেওয়ানদিঘী থানার বিজয়বাটি এলাকায় এক যুবককে নৃশংসভাবে খুনের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। নিহতের নাম সফিকুল ইসলাম আনসারী, যিনি চেন্নাইয়ে সোনার কাজ করতেন। তদন্তে উঠে এসেছে, সফিকুলের স্ত্রী রাজিয়া সুলতানা ও তাঁর পরম বন্ধু মমতাজউদ্দিন শেখ ওরফে উজ্জ্বলের মধ্যে অবৈধ সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। পরকীয়া প্রেমের পথে বাধা হওয়ায় অভিযুক্তরা পরিকল্পনা করে সফিকুলকে সরিয়ে দেওয়ার ছক কষে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গত রবিবার পরিকল্পনামাফিক মমতাজউদ্দিন তাঁর বাড়িতে সফিকুল ও তাঁর স্ত্রীকে নিমন্ত্রণ করেন। সন্ধ্যার দিকে কেনাকাটার অছিলায় সফিকুলকে বাইকে করে নির্জন সেচখালের ধারে নিয়ে গিয়ে ভারী বস্তু দিয়ে মাথায় আঘাত করে খুন করা হয়। প্রমাণ লোপাটের জন্য মরদেহটি খালে ফেলে অভিযুক্ত পালিয়ে যায়। স্থানীয়দের কাছে খবর পেয়ে পুলিশ রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে তদন্তে নামে এবং নিহতের মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে স্ত্রী ও বন্ধুকে আটক করে।
জেরায় অসঙ্গতি মেলায় পুলিশি জেরার মুখে অভিযুক্তরা অপরাধ স্বীকার করেছে। সোমবার ধৃতদের বর্ধমান আদালতে পেশ করা হলে বিচারক তাদের পাঁচ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, ঘটনার পুনর্নির্মাণ ও বিস্তারিত প্রমাণের জন্য তদন্ত জারি রয়েছে। নিহত সফিকুলের পরিবার এই ঘটনার পর অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।