চাকরির আশায় লাইনে বৃদ্ধ বাবা, যুবসাথী প্রকল্প নিয়ে মমতাকে তীব্র আক্রমণ দিলীপ ঘোষের

রাজ্য সরকারের নতুন প্রকল্প ‘যুবসাথী’ ঘিরে উত্তাল বঙ্গ রাজনীতি। আবেদনের প্রথম দিনেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে উপচে পড়া ভিড় এবং দীর্ঘ লাইন নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে, বহু জায়গায় বেকার ছেলে-মেয়েদের হয়ে বয়স্ক বাবাদের ফর্ম তোলার লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ।
বিজেপি নেতার দাবি, এই দৃশ্যই প্রমাণ করে দিচ্ছে রাজ্যের কর্মসংস্থানের কঙ্কালসার দশা। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বপ্নের এই প্রকল্পকে কটাক্ষ করে দিলীপ ঘোষ বলেন, “সাধারণত বাবা-মায়ের ওষুধের জন্য ছেলে-মেয়েরা লাইনে দাঁড়ায়, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো, এই রাজ্যে ছেলে-মেয়েদের চাকরির আশায় এখন বৃদ্ধ বাবাদের লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, ভোটব্যাঙ্ক নিশ্চিত করতেই বেকার ভাতার নামে যুবসমাজকে প্রলুব্ধ করার চেষ্টা করছে শাসকদল।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাত পর্যন্ত সাড়ে ১৩ লক্ষেরও বেশি আবেদন জমা পড়েছে। জেলাভিত্তিক পরিসংখ্যানে মুর্শিদাবাদ শীর্ষে থাকলেও পাহাড়ি জেলা কালিম্পংয়ে আবেদনের সংখ্যা সবথেকে কম। বিরোধীদের মতে, এই বিপুল সংখ্যক আবেদনই স্পষ্ট করে দিচ্ছে রাজ্যে বেকারের সংখ্যা ঠিক কতটা উদ্বেগজনক।
যুবসাথী প্রকল্পের খুঁটিনাটি একনজরে
- ভাতা: যোগ্য আবেদনকারীরা প্রতি মাসে ১,৫০০ টাকা করে সর্বোচ্চ ৫ বছর পর্যন্ত এই ভাতা পাবেন।
- যোগ্যতা: আবেদনকারীকে অন্তত মাধ্যমিক পাশ হতে হবে এবং বয়স হতে হবে ২১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে।
- শর্ত: যারা ইতিমধ্যে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বা যুবশ্রীর মতো অন্য কোনো সরকারি ভাতা পাচ্ছেন, তারা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না। তবে ছাত্রছাত্রীদের স্কলারশিপ এতে বাধা হবে না।
- সময়সীমা: আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই প্রকল্পের আবেদন গ্রহণ করা হবে এবং ১ এপ্রিল থেকে এটি কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।
২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের জন্য এই প্রকল্পে ৫,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে রাজ্য সরকার। তবে এর রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব নিয়ে শাসক-বিরোধী তরজা এখন তুঙ্গে।