বেতন থেকে বিলাসবহুল গাড়ি ও বাড়ি, বাংলাদেশের একজন মন্ত্রী ঠিক কী কী সুবিধা পান

বাংলাদেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর আজ মঙ্গলবার বিকেলে গঠিত হতে যাচ্ছে নতুন মন্ত্রিসভা। বিএনপি নেতৃত্বাধীন এই নতুন সরকারে কারা ঠাঁই পাচ্ছেন, তা নিয়ে যেমন কৌতূহল রয়েছে, তেমনই জনমনে প্রশ্ন জাগে— একজন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রী রাষ্ট্র থেকে ঠিক কতটা বেতন ও সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেন?
দ্য মিনিস্টারস, মিনিস্টার অব স্টেট অ্যান্ড ডেপুটি মিনিস্টারস (রেমুনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজ) অ্যামেন্ডমেন্ট বিল অনুযায়ী, বাংলাদেশের মন্ত্রিসভার সদস্যদের সুযোগ-সুবিধার তালিকাটি বেশ দীর্ঘ এবং আকর্ষণীয়। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, তাঁদের এই আয়ের ওপর কোনো কর দিতে হয় না।
প্রধানমন্ত্রীর বেতন ও ভাতা
সরকারপ্রধান হিসেবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী মাসিক বেতন পান ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা। এর বাইরে তিনি মাসিক ১ লাখ টাকা বাড়ি ভাড়া এবং প্রতিদিন ৩ হাজার টাকা করে দৈনিক ভাতা পান। তাঁর সরকারি বাসভবনের যাবতীয় রক্ষণাবেক্ষণ ও সাজসজ্জার ব্যয়ভার রাষ্ট্র বহন করে।
মন্ত্রীদের সুযোগ-সুবিধা
একজন পূর্ণ মন্ত্রী মাসিক বেতন পান ১ লাখ ৫ হাজার টাকা। বেতনের পাশাপাশি তিনি আরও যা যা পান:
- ভাতা: দৈনিক ২ হাজার টাকা ভাতা এবং মাসিক ১০ হাজার টাকা নিয়ামক ভাতা।
- আবাসন: বিনা ভাড়ায় সরকারি বাসভবন, যেখানে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জলর বিল সরকার দেয়। আসবাবপত্রের জন্য পান ৫ লাখ টাকা। সরকারি বাসায় না থাকলে মাসিক ৮০ হাজার টাকা বাড়ি ভাড়া পান।
- পরিবহন: সরকারি খরচে সার্বক্ষণিক গাড়ি এবং ঢাকার বাইরে সফরের জন্য অতিরিক্ত জিপ সুবিধা।
- তহবিল: বছরে ১০ লাখ টাকার স্বেচ্ছাধীন তহবিল।
- অন্যান্য: মোবাইল কেনার জন্য ৭৫ হাজার টাকা এবং ৮ লাখ টাকার বিমান ভ্রমণ বিমা।
প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের প্রাপ্তি
প্রতিমন্ত্রীদের মাসিক বেতন ৯২ হাজার টাকা এবং উপমন্ত্রীদের ৮৬ হাজার ৫০০ টাকা।
- প্রতিমন্ত্রী: মাসিক সাড়ে ৭ হাজার টাকা নিয়ামক ভাতা, সাড়ে ৭ লাখ টাকার স্বেচ্ছাধীন তহবিল এবং সরকারি বাসায় না থাকলে ৭০ হাজার টাকা বাড়ি ভাড়া পান।
- উপমন্ত্রী: মাসিক ৫ হাজার টাকা নিয়ামক ভাতা এবং সাড়ে ৫ লাখ টাকার স্বেচ্ছাধীন তহবিল পান।
ব্যক্তিগত কর্মী ও প্রটোকল
মন্ত্রীরা তাঁদের দাপ্তরিক ও ব্যক্তিগত কাজের জন্য উপ-সচিব পদমর্যাদার একজন একান্ত সচিবসহ বিশাল এক বহর পান। এই তালিকায় সহকারী একান্ত সচিব, দুইজন অফিস সহকারী, পাচক, পিয়ন ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তা প্রহরী অন্তর্ভুক্ত থাকে। এমনকি গৃহকর্মীদের ভ্রমণ খরচও সরকারিভাবে মেটানো হয়।
নতুন এই মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ নেওয়ার পর থেকেই এই বিপুল রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধার আওতায় চলে আসবেন।