বছরের প্রথম বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণ, ভারতে প্রভাব ও পালনীয় নিয়মাবলি

আজ ১৭ ফেব্রুয়ারি, মঙ্গলবার বছরের প্রথম সূর্যগ্রহণ সংগঠিত হতে চলেছে। জ্যোতির্বিজ্ঞানের ভাষায় এটি একটি বলয়াকার বা ‘রিং অফ ফায়ার’ সূর্যগ্রহণ, যা ভারতীয় সময় বিকেল ৩:২৬ মিনিটে শুরু হয়ে সন্ধ্যা ৭:৫৭ মিনিট পর্যন্ত চলবে। কুম্ভ রাশি ও ধনিষ্ঠা নক্ষত্রে ঘটা এই মহাজাগতিক দৃশ্যটি মূলত দক্ষিণ আফ্রিকা, অ্যান্টার্কটিকা এবং দক্ষিণ আমেরিকার বিভিন্ন দেশ থেকে দেখা যাবে। তবে ভারতে এই গ্রহণ দৃশ্যমান না হওয়ায় এ দেশে কোনো ধর্মীয় ‘সূতক কাল’ বা বিধিনিষেধ কার্যকর হবে না।
শাস্ত্রীয় মতে, গ্রহণ চলাকালীন সাধারণত শুভ কাজ, রান্না বা ভোজন নিষিদ্ধ থাকে এবং মন্দিরের দ্বার বন্ধ রাখা হয়। বিশেষ করে গর্ভবতী মহিলা ও বয়স্কদের এই সময়ে সাবধানে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। যেহেতু ভারতে এই গ্রহণ দেখা যাবে না, তাই সাধারণ জনজীবনে এর কোনো অশুভ প্রভাব পড়বে না। তবুও আধ্যাত্মিক বিশ্বাসী ব্যক্তিরা চাইলে গ্রহণের সময় সূর্য মন্ত্র বা বিষ্ণু সহস্রনাম পাঠ করতে পারেন, যা মানসিক প্রশান্তি ও ইতিবাচক শক্তি বজায় রাখতে সাহায্য করে।
গ্রহণের নেতিবাচক প্রভাব কাটাতে স্নান সেরে সারা ঘরে গঙ্গাজল ছিটানো এবং দেববিগ্রহের শুদ্ধিকরণ অত্যন্ত ফলপ্রসূ বলে বিবেচিত হয়। এছাড়া গ্রহণ পরবর্তী সময়ে দরিদ্রদের অন্ন, বস্ত্র বা সামর্থ্য অনুযায়ী তামা, গুড় ও গম দান করা শাস্ত্রীয়ভাবে শুভ। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, যখন চাঁদ সূর্য ও পৃথিবীর মাঝখানে এসে সূর্যের আলোকে আংশিক বা পূর্ণ বাধা দেয়, তখনই এই গ্রহণ সৃষ্টি হয়। প্রাকৃতিক এই ঘটনাটি পর্যবেক্ষণের ক্ষেত্রে সরাসরি সূর্যের দিকে না তাকিয়ে বিশেষ চশমা ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।