‘নির্বাচন কমিশন নয় যেন টর্চার কমিশন’, সাত আধিকারিকের সাসপেনশন নিয়ে রণংদেহী মমতা

‘নির্বাচন কমিশন নয় যেন টর্চার কমিশন’, সাত আধিকারিকের সাসপেনশন নিয়ে রণংদেহী মমতা

নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে রাজ্যের সাত আধিকারিকের সাসপেনশন ঘিরে নবান্ন ও কমিশনের সংঘাত এখন তুঙ্গে। এই ইস্যুতে সরাসরি কমিশনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার এক সাংবাদিক বৈঠকে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, “যাঁদের ডিমোশন করবে, তাঁদের আমি প্রোমোশন দেব।”

কমিশনকে তীব্র আক্রমণ

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ায় গাফিলতির অভিযোগে ওই সাত আধিকারিককে সাসপেন্ড করার নির্দেশ দিয়েছিল কমিশন। মুখ্যমন্ত্রী এই সিদ্ধান্তকে ‘তুঘলকি’ এবং ‘হিটলারি অত্যাচার’ বলে কটাক্ষ করেছেন। তাঁর অভিযোগ, অভিযুক্তদের আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনো সুযোগই দেওয়া হয়নি। কমিশনকে ‘সো-কল্ড টর্চার কমিশন’ এবং ‘ক্যাপচার কমিশন’ বলেও অভিহিত করেন তিনি।

এআই ব্যবহার করে নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সবথেকে বিস্ফোরক অভিযোগ হলো ভোটার তালিকা নিয়ে। তিনি দাবি করেন, বিজেপির এক নেত্রী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে ভোটার তালিকা থেকে ৫৮ লক্ষ নাম বাদ দিয়েছেন। তাঁর মতে, এর মধ্যে বহু বৈধ ভোটার রয়েছেন এবং বাংলায় ‘জোচ্চুরি খেলার চচ্চড়ি’ চলছে।

অন্যান্য মূল পয়েন্ট

  • হোয়াটসঅ্যাপ নির্দেশিকা: সারাদিন ধরে ঘনঘন হোয়াটসঅ্যাপ বার্তার মাধ্যমে আলাদা আলাদা নির্দেশ পাঠানোয় প্রশাসনিক স্তরে ‘টোটাল কনফিউশন’ তৈরি হচ্ছে বলে দাবি মুখ্যমন্ত্রীর।
  • বৈষম্যের প্রশ্ন: বিহারে এসআইআর প্রক্রিয়ায় যে নিয়ম মানা হয়েছে, বাংলায় কেন অতিরিক্ত কড়াকড়ি করা হচ্ছে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
  • সতর্কবার্তা: মুখ্যমন্ত্রী জানান, আইন মেনে চললেও কমিশন যদি নির্দিষ্ট সীমা অতিক্রম করে, তবে তাদের ‘ছক্কা খেতে হবে’।

সাত আধিকারিকের পাশেই যে রাজ্য সরকার শক্তভাবে দাঁড়িয়ে আছে, এদিনের মন্তব্যে তা পরিষ্কার করে দিয়েছেন প্রশাসনিক প্রধান।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *