নির্বাচন কমিশনকে ‘তুঘলকি’ কটাক্ষ মমতার, সাসপেন্ড হওয়া সাত আধিকারিকের পাশে দাঁড়িয়ে বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

নির্বাচন কমিশনকে ‘তুঘলকি’ কটাক্ষ মমতার, সাসপেন্ড হওয়া সাত আধিকারিকের পাশে দাঁড়িয়ে বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

নির্বাচন কমিশনের নজিরবিহীন পদক্ষেপের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পাল্টা গর্জে উঠলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যের সাত আধিকারিককে সাসপেন্ড করার ঘটনায় কমিশনকে ‘তুঘলকি’ আখ্যা দিয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, ওই আধিকারিকদের চাকরি যাচ্ছে না। বরং রাজ্য সরকার তাঁদের পাশে আছে এবং ভবিষ্যতে তাঁদের পদোন্নতিও হতে পারে।

মুখ্যমন্ত্রীর প্রধান বক্তব্যসমূহ

  • চাকরি হারাবেন না আধিকারিকরা: মুখ্যমন্ত্রী আশ্বস্ত করেছেন যে, সাসপেন্ড হওয়া সাত আধিকারিক চাকরিচ্যুত হচ্ছেন না। তাঁরা নির্বাচনের কাজের বাইরে জেলায় অন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করবেন।
  • কমিশনকে কড়া আক্রমণ: নবান্নে আয়োজিত সাংবাদিক বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচন কমিশনকে ‘তুঘলকি কমিশন’ বলে কটাক্ষ করেন। তাঁর অভিযোগ, কোনো তদন্ত বা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়েই এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
  • সরকারের সমর্থন: মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্য সরকার এই আধিকারিকদের পাশে রয়েছে। প্রয়োজনে তাঁদের পদোন্নতির বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে।
  • রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপের অভিযোগ: ভোটার তালিকা সংশোধনের (SIR) নামে সংখ্যালঘু, তফসিলি এবং গরিব মানুষদের টার্গেট করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। একে ‘রাবণের সীতা হরণ’-এর সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, ভয় দেখিয়ে গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে।

পটভূমি

ভুল তথ্য প্রদান, কর্তব্যে গাফিলতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে গত সোমবার দক্ষিণ ২৪ পরগনা, জলপাইগুড়ি, মুর্শিদাবাদ এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের মোট সাতজন এইআরও (EAIRO)-কে সাসপেন্ড করে নির্বাচন কমিশন। এই ঘটনার প্রতিবাদে মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানান, “আমাকে আঘাত করলে আমি প্রত্যাঘাত করব।”

সাসপেন্ড হওয়া আধিকারিকদের তালিকা

জেলাআধিকারিকের নাম
দক্ষিণ ২৪ পরগনা (ক্যানিং পূর্ব)সত্যজিৎ দাস, জয়দীপ কুন্ডু
জলপাইগুড়ি (ময়নাগুড়ি)ডালিয়া রায়চৌধুরী
মুর্শিদাবাদ (শমসেরগঞ্জ, ফরাক্কা, সুতি)শেফাউর রহমান, নীতীশ‌ দাস, শেখ মুর্শিদ আলম
পশ্চিম মেদিনীপুর (ডেবরা)দেবাশিস বিশ্বাস

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *