বিনিয়োগের সঠিক দিশা: এফডি, আরডি নাকি মিউচুয়াল ফান্ড?

সঞ্চয় কেবল অর্থ জমিয়ে রাখা নয়, বরং সঠিক খাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে তার প্রকৃত মূল্য বৃদ্ধি করা। বর্তমানে মুদ্রাস্ফীতির বাজারে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা ফেলে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ নয়, কারণ এতে অর্থের ক্রয়ক্ষমতা ধীরে ধীরে হ্রাস পায়। তাই নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়তে ফিক্সড ডিপোজিট (FD), রেকারিং ডিপোজিট (RD) এবং মিউচুয়াল ফান্ডের মতো জনপ্রিয় মাধ্যমগুলোর সুবিধা ও ঝুঁকি বুঝে বিনিয়োগ করা জরুরি।
যাঁরা ঝুঁকিহীন ও নিশ্চিত আয় চান, তাঁদের জন্য এফডি এবং আরডি আদর্শ। এফডিতে এককালীন অর্থ জমা রেখে নির্দিষ্ট হারে সুদ পাওয়া যায়, যা স্বল্পমেয়াদী লক্ষ্য বা অবসরপ্রাপ্তদের জন্য উপযোগী। অন্যদিকে, চাকরিজীবী বা স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য আরডি প্রতি মাসে নির্দিষ্ট সঞ্চয়ের অভ্যাস তৈরি করে। তবে এই রক্ষণশীল বিনিয়োগে সুদের হার তুলনামূলক কম হওয়ায় দীর্ঘমেয়াদে বড় সম্পদ তৈরি করা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে।
বিপরীতে, দীর্ঘমেয়াদে মুদ্রাস্ফীতিকে হারিয়ে অধিক মুনাফা অর্জনের জন্য মিউচুয়াল ফান্ড একটি শক্তিশালী বিকল্প। এটি সরাসরি বাজার-নির্ভর হওয়ায় এতে ঝুঁকি থাকলেও পেশাদার ফান্ড ম্যানেজারের মাধ্যমে বিনিয়োগে চক্রবৃদ্ধির সুবিধা পাওয়া যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, ৫ থেকে ১৫ বছরের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা থাকলে সাময়িক অস্থিরতা কাটিয়ে উল্লেখযোগ্য সম্পদ বৃদ্ধি সম্ভব। সুতরাং, ব্যক্তিগত লক্ষ্য ও ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতা বিবেচনা করে একটি ভারসাম্যপূর্ণ পোর্টফোলিও তৈরি করাই আর্থিক সাফল্যের চাবিকাঠি।