বাংলার মানুষের ভোটাধিকার খর্ব করার অভিযোগে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরব মহুয়া মৈত্র

বাংলার মানুষের ভোটাধিকার খর্ব করার অভিযোগে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরব মহুয়া মৈত্র

কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র বাংলার মানুষের ভোটাধিকার খর্ব করার অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। মঙ্গলবার কৃষ্ণনগরে একটি সরকারি অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার পর সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন যে, একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নির্দেশে কমিশন সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। সাংসদ দাবি করেন, এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকেই সুকৌশলে ভোটারদের অধিকার কেড়ে নেওয়ার একটি প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। পরবর্তীতে তিনি সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও আপলোড করেও এই বিষয়ে সরব হন।

সাংসদ মৈত্র সুপ্রিম কোর্টের গত ৯ ফেব্রুয়ারির নির্দেশের কথা উল্লেখ করে জানান যে, এসআইআর প্রক্রিয়ার জন্য চাওয়া নথিগুলি সম্পূর্ণ বৈধ এবং ভোটাররা যেকোনো স্বীকৃত নথি জমা দিতে পারেন। তিনি বলেন, গত বছরের ২৭ অক্টোবর যখন রাজ্যে এসআইআর নির্দেশিকা চালু হয়, তখন সরকারি জমি বা আবাসন বরাদ্দের শংসাপত্রকে বৈধ প্রমাণ হিসেবে গণ্য করা হয়েছিল। সেই অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা বা বাংলার বাড়ি প্রকল্পের আর্থিক অনুমোদনের চিঠিও বৈধ নথি হিসেবে গ্রহণযোগ্য। কিন্তু এখন শুনানি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর কমিশন কেন এই নথিগুলির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে, সেই বিষয়ে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন।

এই আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতার প্রেক্ষিতে তৃণমূল কংগ্রেস আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানান মহুয়া মৈত্র। তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন যে, কোনোভাবেই ভোটার তালিকা থেকে সাধারণ মানুষের নাম অন্যায়ভাবে বাদ দিতে দেওয়া হবে না। বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনের যৌথ প্রচেষ্টায় বাংলার মানুষকে ভোটাধিকার বঞ্চিত করার যে চক্রান্ত চলছে, তার বিরুদ্ধে দলীয় স্তরে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নবদ্বীপ সফর প্রসঙ্গে সাংসদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কেবল ভোটের সময়ই বাংলায় আসেন, যা অনভিপ্রেত। তাঁরা যদি সারা বছর আসতেন এবং মায়াপুরের পাশাপাশি এলাকার সমস্ত মন্দিরে যেতেন, তবে স্থানীয় মানুষ বেশি খুশি হতো। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে রাজ্যে স্বাগত জানালেও মহুয়া মৈত্র দাবি করেন যে, এসব সফর সত্ত্বেও আসন্ন নির্বাচনে বিরোধীরা জয়লাভ করতে পারবে না। রাজনৈতিক স্বার্থে নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহারের অভিযোগ তুলে তিনি সাফ জানান যে, মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় তাঁরা শেষ পর্যন্ত লড়াই করবেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *