ভাঙড়ে ভয়াবহ বিপর্যয়, পিচ গলানো ড্রাম ফেটে অগ্নিদগ্ধ ৪ শিশু

ভাঙড়ে ভয়াবহ বিপর্যয়, পিচ গলানো ড্রাম ফেটে অগ্নিদগ্ধ ৪ শিশু

রাস্তার ধারে খেলাধুলা করছিল একদল শিশু। আচমকাই বিকট শব্দে কেঁপে উঠল চারপাশ। ধোঁয়ায় ঢেকে গেল এলাকা। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙরের খড়গাছি-চাঁদপুর এলাকায় পিচ রাস্তা মেরামতির কাজের জন্য রাখা একটি রাসায়নিক ভর্তি ড্রাম ফেটে ঘটে গেল ভয়াবহ দুর্ঘটনা। এই ঘটনায় মারাত্মকভাবে ঝলসে গিয়েছে ৪ শিশু। যন্ত্রণায় ছটফট করতে করতে এক শিশু পাশের পুকুরে ঝাঁপ দেয় প্রাণ বাঁচাতে।

বিস্ফোরণের নেপথ্যে কী?

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার ওই এলাকায় রাস্তা মেরামতির কাজ চলছিল। রাস্তার ধারেই রাখা ছিল প্রায় ২০০ লিটার ডিজেল ও রাসায়নিক মিশ্রিত একটি ড্রাম। অভিযোগ, ড্রামটি দীর্ঘক্ষণ রোদে থাকার ফলে বা ভেতরে থাকা দাহ্য পদার্থের রাসায়নিক প্রতিক্রিয়ায় হঠাৎই বিস্ফোরণ ঘটে। সেই সময় ৮ থেকে ১০ বছর বয়সী একদল শিশু সেখানে খেলা করছিল। ড্রামটি ফেটে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আগুনের হলকা ছড়িয়ে পড়ে তাদের শরীরে।

আহতদের বর্তমান অবস্থা

বিস্ফোরণের তীব্রতায় গুরুতর আহত হয়েছে সাদিকুল আহমেদ (৮), রায়ান মোল্লা (৯) এবং সামিউল মোল্লা (১০)। আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও অবস্থার অবনতি হওয়ায় ৩ শিশুকে কলকাতার এমআর বাঙুর হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে খবর, ৮ বছর বয়সী সাদিকুলের শরীর মারাত্মকভাবে পুড়ে যাওয়ায় তার অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। বর্তমানে তারা হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের আইসিইউ-তে চিকিৎসাধীন।

তৎপরতা ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া

ঘটনার খবর পেয়েই এলাকায় পৌঁছান স্থানীয় বিধায়ক শওকত মোল্লা। অন্যদিকে, কলকাতার হাসপাতালে আহত শিশুদের দেখতে এবং পরিবারের সঙ্গে কথা বলতে পৌঁছান রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। সরকারের পক্ষ থেকে আহত শিশুদের চিকিৎসার যাবতীয় দায়িত্ব এবং সব ধরণের সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

নিরাপত্তা নিয়ে উঠছে বড় প্রশ্ন

জনবহুল এলাকায় রাস্তা মেরামতির কাজ চলাকালীন কেন এই ধরণের বিপজ্জনক রাসায়নিক ড্রাম অরক্ষিত অবস্থায় ফেলে রাখা হয়েছিল, তা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ঠিকাদার সংস্থা বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। এই ঘটনা রাজ্যের সাধারণ মানুষ বিশেষ করে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া করে দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *