নির্বাচনের আগে বড় পদক্ষেপ, ডিইও-র সেই ‘বিতর্কিত’ ইস্যুতেই এবার কড়া নজর কমিশনের

নির্বাচনের আগে বড় পদক্ষেপ, ডিইও-র সেই ‘বিতর্কিত’ ইস্যুতেই এবার কড়া নজর কমিশনের

পশ্চিমবঙ্গের সংশোধিত ভোটার তালিকা বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে এবার বিশেষ তৎপরতা দেখালো নির্বাচন কমিশন। যে ইস্যু তুলে কিছুদিন আগে পূর্ব বর্ধমানের জেলাশাসক তথা ডিইও (DEO) ভর্ৎসিত হয়েছিলেন, শেষ পর্যন্ত সেই পথেই হাঁটল কমিশন।

রাজ্যের সিইও দফতরের পক্ষ থেকে সমস্ত জেলাশাসকদের বিশেষ নির্দেশ পাঠানো হয়েছে। যেখানে জেলাভিত্তিক আদিম জনজাতি, তফসিলি জাতি (SC), জনজাতি, বনবাসী এবং আশ্রমের আবাসিকদের বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার মধ্যে এই তথ্য জমা দেওয়ার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল, যা বিকেলের মধ্যেই দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের সদর দফতরে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।

কেন এই হঠাৎ তৎপরতা?

গত ১৩ ফেব্রুয়ারি এসআইআর সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে কোচবিহার, জলপাইগুড়ি ও মালদার জেলাশাসকদের কাজে গাফিলতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিল কমিশন। সেই বৈঠকেই পূর্ব বর্ধমানের জেলাশাসক আয়েশা রানিকে রাজনৈতিক বক্তব্য না দেওয়ার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সূত্র মারফত জানা গেছে, আয়েশা রানি সেই সময় তফসিলি ও আদিম জনজাতিদের নথি সংক্রান্ত সমস্যার কথা তুলেছিলেন। তখন বিষয়টি গুরুত্ব না পেলেও, এখন সেই তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই ‘বিশেষ উইন্ডো’ খোলার প্রস্তাব দিচ্ছে কমিশন।

আধিকারিকদের জন্য কড়া হুঁশিয়ারি

নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, প্রতিটি নথি এবং সিদ্ধান্ত সিস্টেমে দীর্ঘকাল সংরক্ষিত থাকবে। ভোটার তালিকায় যদি কোনো ‘বিদেশি’ নাগরিকের নাম অন্তর্ভুক্ত হয় এবং তা কয়েক বছর পরেও ধরা পড়ে, তবে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রশাসনিক ক্যারিয়ারের দীর্ঘমেয়াদী ঝুঁকির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ইআরও (ERO) ও ডিইও-দের স্বচ্ছতার সাথে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সিইও দফতরের আধিকারিকরা এই মুহূর্তে বিষয়টি নিয়ে মুখ না খুললেও, কমিশনের এই পদক্ষেপে স্পষ্ট যে ভোটার তালিকা সংশোধনে কোনো ফাঁকফোকর রাখতে চাইছে না নির্বাচন ভবন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *