ভারতে কি এবার শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আসছে? কড়া পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিলেন অশ্বিনী বৈষ্ণব

অস্ট্রেলিয়ার পর এবার কি ভারত? দেশের কোটি কোটি সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীর জন্য বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিলেন কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি ও সম্প্রচার মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। শিশুদের মানসিক সুরক্ষা এবং ডিপফেক প্রযুক্তির অপব্যবহার রুখতে কেন্দ্র এবার অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিতে চলেছে বলে জানা গেছে।
বয়সভিত্তিক নিয়ন্ত্রণে জোর দিচ্ছে কেন্দ্র
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জানিয়েছেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো ভারতেও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে বয়সভিত্তিক বিধিনিষেধ আনার বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা চলছে। বিশেষ করে কমবয়সিদের ওপর ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের নেতিবাচক প্রভাব এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই পরিকল্পনা। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম বা ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় মাধ্যমগুলো ব্যবহারের ক্ষেত্রে শিশুদের জন্য নির্দিষ্ট বয়সের সীমা বেঁধে দেওয়া হতে পারে।
ডিপফেক রুখতে কড়া আইনি কবজ
বর্তমান সময়ে ডিপফেক বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে তৈরি ভুয়ো ভিডিও ও ছবি সমাজের জন্য বড় বিপদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অশ্বিনী বৈষ্ণব স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, অপপ্রচার এবং মানহানি রুখতে বর্তমান আইনের বাইরে গিয়ে আরও শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা তৈরি করা হচ্ছে। এই বিষয়ে সংসদীয় কমিটিও কাজ শুরু করেছে এবং সব রাজনৈতিক দলের মধ্যে ঐকমত্য তৈরির চেষ্টা চলছে।
কঠোর বার্তা টেক জায়ান্টদের
মেটা (ফেসবুক-হোয়াটসঅ্যাপ), এক্স (সাবেক টুইটার), নেটফ্লিক্স বা ইউটিউব—সংস্থা যাই হোক না কেন, ভারতের মাটি থেকে ব্যবসা করতে হলে দেশের আইন ও সংবিধান মেনেই চলতে হবে। মন্ত্রী সাফ জানিয়েছেন, ব্যবহারকারীদের সুরক্ষা এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোর দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য।
বিশ্বজুড়ে বাড়ছে কড়াকড়ি
ইতিমধ্যেই অস্ট্রেলিয়া ১৬ বছরের কমবয়সিদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ করে নজির গড়েছে। ফ্রান্সও একই পথে হাঁটার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সেই আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে ভারত সরকারও এবার শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে কোনও আপস করতে চাইছে না। এখন দেখার বিষয়, কেন্দ্র কি সরাসরি নিষেধাজ্ঞা জারি করে নাকি কঠোর কোনো নীতিমালা নিয়ে আসে।