এক অ্যাপেই মিলবে গোটা পরিবারের সুরক্ষা! আধার কার্ডের নতুন আপডেট নিয়ে এল বড় চমক

নিউজ ডেস্ক: বর্তমান ডিজিটাল যুগে জালিয়াতি রুখতে এবং সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে আধার কার্ডের ক্ষেত্রে এক বৈপ্লবিক পদক্ষেপ নিল ভারত সরকার। ২০২৬ সালের আধুনিক প্রযুক্তিকে সঙ্গী করে লঞ্চ করা হলো পরবর্তী প্রজন্মের ‘আধার মোবাইল অ্যাপ’। এটি শুধুমাত্র একটি পরিচয়পত্র সংরক্ষণের জায়গা নয়, বরং আপনার ব্যক্তিগত তথ্যের ডিজিটাল ঢাল হিসেবে কাজ করবে।
অ্যাপের বিশেষত্ব ও লগইন প্রক্রিয়া
এই নতুন অ্যাপটি মূলত ‘প্রাইভেসি-ফার্স্ট’ অর্থাৎ ব্যবহারকারীর গোপনীয়তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তৈরি করা হয়েছে।
- সহজ লগইন: ব্যবহারকারী তার আধার নম্বর এবং নিবন্ধিত মোবাইলে আসা ওটিপি-র (OTP) মাধ্যমে লগইন করতে পারবেন।
- নিরাপদ অ্যাক্সেস: এতে ফেস অথেন্টিকেশন (মুখমন্ডল শনাক্তকরণ), আঙুলের ছাপ এবং সিকিউর পিন ব্যবহারের সুবিধা রয়েছে।
- ডেটা মিনিমাইজেশন: অ্যাপটি এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যাতে পরিচয় যাচাইয়ের সময় অপ্রয়োজনীয় তথ্য ফাঁস না হয়। এটি ডিজিটালভাবে স্বাক্ষরিত বিবরণ শেয়ার করে, যেখানে আধার নম্বর সরাসরি প্রকাশ পায় না।
যে সব দুর্দান্ত সুবিধা মিলবে
নতুন এই অ্যাপটি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন কাজকে আরও সহজ করে তুলবে। এর উল্লেখযোগ্য ফিচারগুলো হলো:
- এক অ্যাপে পাঁচ প্রোফাইল: ‘এক পরিবার, এক অ্যাপ’ নীতির ওপর ভিত্তি করে এখন একটি স্মার্টফোনেই পরিবারের পাঁচজন সদস্যের আধার প্রোফাইল পরিচালনা করা যাবে।
- অফলাইন যাচাইকরণ: হোটেল চেক-ইন বা হাসপাতালের প্রয়োজনে কিউআর (QR) কোড ভিত্তিক অফলাইন ভেরিফিকেশন করা সম্ভব।
- বয়স যাচাই: সিনেমার টিকিট কাটা বা অন্যান্য ক্ষেত্রে আধার কার্ড না দেখিয়েই অ্যাপের মাধ্যমে বয়স প্রমাণ করা যাবে।
- ডিজিটাল ভিজিটিং কার্ড: যোগাযোগের তথ্য শেয়ার করার জন্য এতে রয়েছে কিউআর-ভিত্তিক কন্টাক্ট কার্ড।
নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা
অনলাইন জালিয়াতি রুখতে এই অ্যাপে যুক্ত করা হয়েছে ‘বায়োমেট্রিক লক’ সিস্টেম। কোনো ব্যবহারকারী যদি তার তথ্যের অপব্যবহারের আশঙ্কা করেন, তবে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে আঙুলের ছাপ এবং আইরিস ডেটা লক করে দিতে পারবেন। এর ফলে ব্যবহারকারীর অনুমতি ছাড়া কেউ বায়োমেট্রিক তথ্য ব্যবহার করতে পারবে না। এছাড়া, গত কয়েক মাসে কোথায় কোথায় আধার ব্যবহার করা হয়েছে, তার সম্পূর্ণ ইতিহাস (Authentication History) দেখার সুযোগও থাকছে এই অ্যাপে।
ইলেকট্রনিক্স এবং তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রকের দাবি, ডিজিটাল ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা আইন মেনেই এই সিস্টেমটি তৈরি করা হয়েছে, যা অ্যান্ড্রয়েড এবং আইওএস (iOS) দুই প্ল্যাটফর্মেই সমানভাবে কার্যকরী।