বদলে যাবে ভারতের ইন্টারনেট দুনিয়া, ১৫ বিলিয়ন ডলারের মেগা প্রজেক্ট নিয়ে বড় ঘোষণা সুন্দর পিচাইয়ের

নিউজ ডেস্ক: ভারতের ডিজিটাল মানচিত্রে এক ঐতিহাসিক বিপ্লব আনতে চলেছে টেক জায়ান্ট গুগল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর গুগলের সিইও সুন্দর পিচাই এবং ডিপমাইন্ডের প্রধান ডেমিস হাসাবিস এক বিশাল বিনিয়োগের রূপরেখা প্রকাশ করেছেন। আগামী পাঁচ বছরে ভারতে প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় যা কয়েক লক্ষ কোটি টাকা) বিনিয়োগ করতে চলেছে এই সংস্থা।
সমুদ্রের নিচে বিছানো হবে ইন্টারনেটের জাল
আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা এআই-এর কাজ মসৃণ করতে প্রয়োজন অতি দ্রুতগতির ইন্টারনেট। সেই লক্ষ্যেই সমুদ্রের তলদেশ দিয়ে বিশেষ ফাইবার অপটিক কেবল সেন্টার তৈরির পরিকল্পনা নিয়েছে গুগল। এই কেবল ভারতকে সরাসরি সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশগুলোর সঙ্গে যুক্ত করবে। বর্তমানে বিশ্বের ইন্টারনেট ট্র্যাফিক মূলত আমেরিকা ও ইউরোপ নির্ভর হলেও, গুগলের এই পদক্ষেপের পর ভারত হয়ে উঠবে বিশ্ব ইন্টারনেটের অন্যতম প্রধান কেন্দ্রবিন্দু।
তৈরি হবে দেশের প্রথম এআই হাব
সুন্দর পিচাই জানিয়েছেন, এই বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করা হবে ভারতের প্রথম ‘এআই হাব’ প্রতিষ্ঠায়। এখানে এআই মডেল প্রশিক্ষণ, ক্লাউড পরিষেবা এবং উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কম্পিউটিংয়ের কাজ চলবে। শুধু ভারত নয়, দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলোকেও এই সেন্টার থেকে পরিষেবা দেওয়া সম্ভব হবে। এর ফলে ভারতীয় স্টার্টআপ এবং ডেভেলপারদের আর বিদেশি সার্ভারের ওপর নির্ভর করতে হবে না, যার ফলে একধাক্কায় ডিজিটাল কাজের খরচ কমবে এবং গতি বাড়বে বহুগুণ।
১০০ মিলিয়ন মানুষকে প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থান
গুগলের এই মাস্টারপ্ল্যানে কেবল প্রযুক্তি নয়, জড়িয়ে আছে সাধারণ মানুষের ভবিষ্যৎও। সংস্থার দাবি, আগামী দিনে প্রায় ১০০ মিলিয়নেরও বেশি মানুষকে এআই বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। বড় শহরের পাশাপাশি প্রান্তিক এলাকার মানুষেরাও এই সুবিধার আওতায় আসবেন।
কী এই ডেটা সেন্টার যা নিয়ে এত চর্চা?
সহজ কথায় বলতে গেলে, ডেটা সেন্টার হলো ইন্টারনেটের কারখানা। এটি এমন এক সুরক্ষিত জায়গা যেখানে সারি সারি শক্তিশালী সার্ভার থাকে। আমরা যখনই ইন্টারনেটে কোনো ভিডিও দেখি বা এআই-কে কোনো প্রশ্ন করি, সেই তথ্য এই সার্ভার থেকেই প্রসেস হয়ে আমাদের ফোনে ফিরে আসে। গুগলের এই নতুন পরিকাঠামো ভারতের ডিজিটাল সার্বভৌমত্বকে আরও শক্তিশালী করবে এবং দেশে প্রচুর নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।