হাওড়া শাখায় আড়াই মাস ট্রেন বিভ্রাট ভোগান্তির আশঙ্কায় মাথায় হাত নিত্যযাত্রীদের

হাওড়া ডিভিশনের ট্রেন যাত্রীদের জন্য দুঃসংবাদ। এবার টানা আড়াই মাস ধরে চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে চলেছেন ব্যান্ডেল-কাটোয়া এবং হাওড়া-কাটোয়া শাখার কয়েক লক্ষ যাত্রী। নতুন একটি রোড ওভারব্রিজ নির্মাণের কাজের জন্য রেলের তরফে দীর্ঘমেয়াদী পাওয়ার ও ট্র্যাফিক ব্লকের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আজ ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়ে এই কাজ চলবে আগামী ৩ মে পর্যন্ত।
কেন এই ভোগান্তি
পূর্ব রেল সূত্রে জানানো হয়েছে, বাঁশবেড়িয়া এবং ত্রিবেণী স্টেশনের মাঝে একটি নতুন রোড ওভারব্রিজ তৈরির কাজ শুরু হচ্ছে। এই পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ২ মে পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে কাজ চলবে। মোট ২৪ দিন ধরে প্রতিদিন প্রায় তিন ঘণ্টা করে পাওয়ার ও ট্র্যাফিক ব্লক নেওয়া হবে। আর এর জেরেই ব্যাহত হবে স্বাভাবিক ট্রেন চলাচল।
বাতিল ট্রেনের তালিকা
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বিশেষ করে ২১ ফেব্রুয়ারি, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২৪ ফেব্রুয়ারি এবং ২৭ মার্চ যাত্রী ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করবে। এই দিনগুলিতে প্রতিদিন চারটি গুরুত্বপূর্ণ লোকাল ট্রেন বাতিল রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ। বাতিল ট্রেনের তালিকায় রয়েছে
- ৩৭৯২২ কাটোয়া-হাওড়া লোকাল
- ৩৭৭৪৬ কাটোয়া-ব্যান্ডেল লোকাল
- ৩৭৭৪৯ ব্যান্ডেল-কাটোয়া লোকাল
- ৩৭৯১৭ হাওড়া-কাটোয়া লোকাল
ট্রেনের সময়সূচিতে রদবদল
শুধুমাত্র ট্রেন বাতিলই নয়, একাধিক ট্রেনের সময়সূচিও পরিবর্তন করা হয়েছে। ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ৪ মার্চ এবং এপ্রিলের শেষ সপ্তাহ জুড়ে বেশ কিছু ট্রেন নির্ধারিত সময়ের পরে ছাড়বে।
- ৩৭৭৪৮ কাটোয়া-ব্যান্ডেল লোকাল: দুপুর ১টার পরিবর্তে এটি ছাড়বে দুপুর ১টা ৫০ মিনিটে।
- ৩৭৯১৪ কাটোয়া-হাওড়া লোকাল: এই ট্রেনটির গতিপথ ১৫ মিনিটের জন্য নিয়ন্ত্রণ করা হবে।
- ২৯ এপ্রিল থেকে ৩ মে: এই সময়কালে ৩৭৭৪১ ব্যান্ডেল-কাটোয়া লোকাল রাত ৩টে ৫ মিনিটের বদলে ভোর ৪টে ৫ মিনিটে ব্যান্ডেল থেকে ছাড়বে।
সমস্যায় নিত্যযাত্রীরা
হাওড়া-কাটোয়া শাখা অত্যন্ত ব্যস্ত একটি রুট। প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ কাজের প্রয়োজনে এই রুটে যাতায়াত করেন। দীর্ঘ আড়াই মাস ধরে ধাপে ধাপে কাজ চলায় অফিসযাত্রী থেকে শুরু করে সাধারণ ব্যবসায়ীদের ব্যাপক অসুবিধায় পড়তে হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। রেলের তরফে যাত্রীদের এই সাময়িক অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করা হলেও, নিত্যযাত্রীদের দাবি, বিকল্প ট্রেনের ব্যবস্থা না থাকলে দুর্ভোগের সীমা থাকবে না।
আপনি কি এই রুটে নিয়মিত যাতায়াত করেন? তবে বাড়ি থেকে বেরোনোর আগে রেলের সর্বশেষ সময়সূচি একবার যাচাই করে নেওয়া জরুরি।