বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের জমানায় নিয়োগ দুর্নীতির গন্ধ! প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে তদন্তের চরম হুঁশিয়ারি হাই কোর্টের

বাম আমলের নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে এবার বিস্ফোরক পর্যবেক্ষণ কলকাতা হাই কোর্টের। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ দে-র বিরুদ্ধে তদন্তের সবুজ সংকেত দিলেন বিচারপতি রাই চট্টোপাধ্যায়। আদালতের স্পষ্ট বক্তব্য, ব্যক্তিগত প্রভাব খাটিয়ে সরকারি কোষাগারের টাকা এভাবে বিলি করা যায় না। ২০১২ সাল থেকে ঝুলে থাকা একটি মামলার প্রেক্ষিতে বুধবার এই ঐতিহাসিক নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
প্রভাব খাটিয়ে চাকরি দেওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ
মামলার মূল উৎস ২০০৭ সালের একটি নিয়োগ। তৎকালীন সর্বশিক্ষা মিশনের চুক্তিভিত্তিক কর্মী হিসেবে উলুবেড়িয়া ইস্ট সার্কেলে যোগ দিয়েছিলেন তিথি অধিকারী নামের এক মহিলা। অভিযোগ, নিয়ম বহির্ভূতভাবে ২০০৮ সালে তাঁকে বালি ইস্ট সার্কেলের প্রজেক্ট অফিসার পদে স্থানান্তর করা হয়। ২০১০ সালে কাজে গাফিলতির অভিযোগে তাঁর চুক্তির মেয়াদ বাড়াতে অস্বীকার করে দফতর। ঠিক এই জায়গাতেই দাপুটে বাম মন্ত্রীর ‘ব্যক্তিগত প্রভাব’ খাানোর অভিযোগ সামনে এসেছে।
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, চাকরি বাঁচাতে তিথি অধিকারী সরাসরি তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ দে-র দ্বারস্থ হন। মন্ত্রীর হস্তক্ষেপে ৫ অক্টোবর ২০১০ সালে তাঁকে বিকাশ ভবনে শিক্ষা দপ্তরের বিভাগীয় সহকারী হিসেবে নিয়োগ করা হয়। কিন্তু ২০১২ সালে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর তাঁকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হলে তিনি আদালতের দ্বারস্থ হন। সেই মামলার শুনানিতেই বেরিয়ে আসে বিস্ফোরক তথ্য।
হাই কোর্টের কড়া পর্যবেক্ষণ ও তদন্তের নির্দেশ
বিচারপতি রাই চট্টোপাধ্যায় তাঁর পর্যবেক্ষণে জানিয়েছেন যে, ওই পদে নিয়োগের একটি নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া রয়েছে। কিন্তু তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী সমস্ত নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। শুধু তাই নয়, সরকারি তহবিল (সর্বশিক্ষা মিশন) থেকে অনৈতিকভাবে বেতন দিয়ে আর্থিক নয়ছয় করা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন বিচারপতি।
আদালতের গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকাগুলি হলো
- তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী কীভাবে নিয়মের বাইরে গিয়ে ব্যক্তিগত সুপারিশে নিয়োগ করলেন, রাজ্য চাইলে তার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করতে পারবে।
- সরকারি কোষাগারের অর্থ এভাবে কোনো ব্যক্তির মর্জিতে খরচ করা যায় না।
- আদালত মনে করছে, এই একটি ঘটনার তদন্ত শুরু হলে বাম আমলের এমন আরও অনেক বেআইনি নিয়োগের মুখোশ খুলে যেতে পারে।
রাজনৈতিক মহলে তোলপাড়
বর্তমানে যখন একের পর এক নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি, ঠিক সেই সময়ে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের জমানার মন্ত্রীর বিরুদ্ধে আদালতের এই কড়া অবস্থান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিরোধীদের ‘স্বচ্ছ বাম আমল’ দাবির মুখে এই রায় এক বড়সড় ধাক্কা। এখন দেখার, হাই কোর্টের এই সবুজ সংকেত পাওয়ার পর রাজ্য সরকার বাম আমলের এই মন্ত্রীর বিরুদ্ধে আইনি পথে কতদূর এগোয়।