শিলিগুড়িতে বিজেপির দুর্গে ধস নামাতে তৃণমূলের মাস্টারস্ট্রোক! ২০২৬ ভোটের আগেই বড় চমক উত্তরবঙ্গে

শিলিগুড়িতে বিজেপির দুর্গে ধস নামাতে তৃণমূলের মাস্টারস্ট্রোক! ২০২৬ ভোটের আগেই বড় চমক উত্তরবঙ্গে

নিউজ ডেস্ক, শিলিগুড়ি

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বাজার আগেই উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে বড়সড় পটপরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। শিলিগুড়ির মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রটি পুনরুদ্ধারে এবার সরাসরি বিজেপির অন্দরেই থাবা বসাতে চলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। রাজনৈতিক মহলে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে, মাটিগাড়া পঞ্চায়েত সমিতির দাপুটে বিজেপি নেতা তথা বিশিষ্ট আইনজীবী মানবেন্দ্র সিনহা গেরুয়া শিবির ছেড়ে ঘাসফুল শিবিরে যোগ দিতে চলেছেন। এই দলবদল কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং আসন্ন নির্বাচনে মানবেন্দ্রকে এই কেন্দ্র থেকে প্রার্থী করে বিজেপি বিধায়ক আনন্দময় বর্মনকে কড়া চ্যালেঞ্জ জানানোর নীল নকশা তৈরি করেছে শাসক দল।

বিজেপি নেতার ঘাসফুল যোগের নেপথ্যে আই-প্যাক

২০২২ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে যখন গোটা ব্লকে তৃণমূলের জয়জয়কার ছিল, তখন প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও বিজেপির টিকিটে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে নজর কেড়েছিলেন মানবেন্দ্র সিনহা। বর্তমানে তিনি পঞ্চায়েত সমিতির বিরোধী দলনেতা হিসেবে যথেষ্ট প্রভাবশালী। সূত্রের খবর, তৃণমূলের নির্বাচনী পরামর্শদাতা সংস্থা ‘আই-প্যাক’ (I-PAC) এবং দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে মানবেন্দ্রর দফায় দফায় বৈঠক হয়েছে। সম্প্রতি কলকাতার এক প্রথম সারির নেতার পাশাপাশি শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেবের সঙ্গে একই মঞ্চে তাঁর উপস্থিতি এই জল্পনাকে কার্যত বাস্তবতার রূপ দিয়েছে।

শঙ্কর মালাকার বনাম মানবেন্দ্র সিনহা: কার পালে হাওয়া বেশি?

মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি আসনের জন্য তৃণমূলের অন্দরে এখন লড়াই মূলত দুই প্রার্থীর। একদিকে রয়েছেন গত বছর কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে আসা অভিজ্ঞ নেতা তথা প্রাক্তন বিধায়ক শঙ্কর মালাকার। অন্যদিকে উঠে আসছে মানবেন্দ্র সিনহার নাম। দলের নিচুতলার কর্মীদের একাংশ মনে করছেন, এই কেন্দ্রে জয় পেতে হলে রাজবংশী ভোটব্যাঙ্ক কবজা করা জরুরি। আর সেই লক্ষ্যে বর্তমান বিজেপি বিধায়ককে টেক্কা দিতে মানবেন্দ্রর মতো ‘ভূমিপুত্র’ এবং নতুন লড়াকু মুখই তৃণমূলের তুরুপের তাস হতে পারে।

অংকের লড়াই: কেন মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি এত গুরুত্বপূর্ণ?

এই কেন্দ্রের নির্বাচনী পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এখানকার ৩ লক্ষেরও বেশি ভোটারের মধ্যে প্রায় ১ লক্ষ ১০ হাজারই রাজবংশী সম্প্রদায়ের। এই বিশাল ভোটব্যাঙ্কই জয়-পরাজয় নির্ধারণ করে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী আনন্দময় বর্মন ১ লক্ষ ৩৯ হাজার ৭৮৫ ভোট (৫৮.১১%) পেয়ে বিশাল ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন। বিপরীতে তৃণমূল এবং বাম-কংগ্রেস জোটের প্রাপ্ত ভোট ছিল যথাক্রমে ৬৮ হাজার ৯৩৭ ও ২৩ হাজার ৬০। এই বিপুল ব্যবধান ঘোচাতে মানবেন্দ্রর মতো জনভিত্তি সম্পন্ন নেতাকেই প্রধান অস্ত্র করতে চাইছে ঘাসফুল শিবির।

বিজেপির পালটা দাবি ও মানবেন্দ্রর অবস্থান

বিজেপির অন্দরে ফাটল ধরার এই খবর অস্বীকার করেছেন বিজেপির দার্জিলিং জেলা সভাপতি অরুণ মণ্ডল। তাঁর দাবি, “মানবেন্দ্র সিনহার দল ছাড়ার প্রশ্নই নেই। বরং তৃণমূলের বহু নেতা-কর্মী বিজেপিতে আসার জন্য পা বাড়িয়ে আছেন।” তৃণমূলকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, “ভাঙা নৌকায় কেউ উঠতে চাইলে সেটা হবে আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত।”

তবে খোদ মানবেন্দ্র সিনহার বয়ানে মিলেছে ভিন্ন সুর। সরাসরি যোগদানের কথা না বললেও তিনি জানিয়েছেন, রাজবংশী সম্প্রদায়ের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে তিনি যেকোনো বড় সিদ্ধান্ত নিতে প্রস্তুত। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, চলতি মাসের শেষেই হয়তো উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে বড় কোনো ধামাকা হতে চলেছে। মানবেন্দ্র সিনহা যদি শেষ পর্যন্ত তৃণমূলে যোগ দিয়ে টিকিট পান, তবে মাটিগাড়া-নকশালবাড়িতে এবার এক ঐতিহাসিক হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সাক্ষী থাকবে রাজ্য রাজনীতি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *