মাসে আয় মাত্র ৮ হাজার আর আয়কর নোটিশ এলো ১৭ কোটির! মির্জাপুরের দিনমজুরের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ল

উত্তরপ্রদেশের মির্জাপুর জেলা থেকে এক হাড়হিম করা জালিয়াতির ঘটনা সামনে এসেছে। যেখানে একজন সাধারণ দিনমজুরকে আয়কর বিভাগ থেকে ১৭ কোটি ৪০ লক্ষ টাকার বিশাল অঙ্কের নোটিশ পাঠানো হয়েছে। সন্তোষনগরের কানহাইপুরের বাসিন্দা শিবধনী, যিনি একসময় একটি ব্যাটারির দোকানে সামান্য মজুরির কাজ করতেন, এখন এক ভয়াবহ আইনি জটিলতায় ফেঁসে গিয়েছেন। শিবধনীর ভাঙাচোরা কাঁচা বাড়ি আর জরাজীর্ণ জীবনযাত্রার দিকে তাকালে কারোর পক্ষে বিশ্বাস করা আসাম্ভব যে, তাঁর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে কোটি কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে।
মালিকের প্রতারণার শিকার অসহায় শিবধনী
শিবধনীর বয়ান অনুযায়ী, তিনি সোনভদ্রের ঘোড়াওয়াল এলাকায় ব্যাটারি লোডিং এবং আনলোডিংয়ের কাজ করতেন। সেই সময় তাঁর দোকানের মালিক বেতন অ্যাকাউন্টে পাঠানোর নাম করে শিবধনীর নথিপত্র ব্যবহার করে কোটাক মাহিন্দ্রা এবং উৎকর্ষ ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট খোলান। শিবধনী ঘুণাক্ষরেও টের পাননি যে, তাঁর অজান্তেই তাঁর নথিপত্র ব্যবহার করে মালিক কোটি কোটি টাকার কালো টাকা সাদা করার খেলা খেলছেন।
নোটিশ আসতেই হাত ধুয়ে ফেললেন মালিক
প্রায় ৮ বছর কাজ করার পর মন্দার অজুহাত দেখিয়ে শিবধনীকে কাজ থেকে বের করে দেন সেই মালিক। এর কিছু সময় পর যখন বাড়িতে আয়করের নোটিশ আসতে শুরু করে, তখন আতঙ্কিত শিবধনী মালিকের কাছে ছুটে যান। মালিক সেই সময় নোটিশগুলো নিজের কাছে রেখে দেন এবং বিষয়টি মিটিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও কার্যত কিছুই করেননি। শেষ পর্যন্ত আয়কর দপ্তরের আধিকারিকরা সরাসরি শিবধনীর বাড়িতে পৌঁছে জানান যে, তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে ১৭.৪০ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। বর্তমানে অসহায় শিবধনী এই গভীর ষড়যন্ত্রের পর্দাফাঁস করতে এবং নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে পুলিশ প্রশাসন ও এসপির দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন।