ধর্ম যার যার দেশ সবার, শপথ নিয়েই কড়া বার্তা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের

ঢাকা: দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে বাংলাদেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ২০২৬ সালের ১৩তম সংসদীয় নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েই জাতির উদ্দেশে দেওয়া তাঁর প্রথম ভাষণটি ছিল ঐক্যের সুরে বাঁধা। ধর্ম, বর্ণ এবং রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভুলে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার করলেন তিনি।
গণহিংসা রুখতে আপসহীন অবস্থান
শপথ নেওয়ার পরপরই টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, দেশে আর কোনো ‘লিঞ্চিং’ বা গণহিংসার স্থান হবে না। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ওপর ঘটে যাওয়া হামলার উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমরা এই দেশকে প্রতিটি নাগরিকের জন্য নিরাপদ করে তুলতে চাই। মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ বা খ্রিস্টান—পরিচয় যাই হোক না কেন, এই দেশ আমাদের সবার।”
উল্লেখ্য, ২০২৪ পরবর্তী সময়ে দেশে সাম্প্রদায়িক অশান্তি এবং গণপিটুনির ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শুরুতেও বেশ কিছু সহিংসতার ঘটনা ঘটেছিল। এই প্রেক্ষাপটে তারেক রহমানের এই বার্তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
আইনের শাসন ও দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন
প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকারের অগ্রাধিকার তালিকা স্পষ্ট করেছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন, কোনো প্রতিষ্ঠান রাজনৈতিক প্রভাবে চলবে না, বরং সংবিধান এবং আইনই হবে সরকারের শেষ কথা। আইনশৃঙ্খলা পুনরুদ্ধার এবং দুর্নীতির ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠাকেই তিনি তাঁর শাসনের মূল ভিত্তি হিসেবে ঘোষণা করেছেন। তিনি আরও বলেন, “বিএনপি-কে যারা ভোট দিয়েছেন বা যারা দেননি, এই সরকারের ওপর সবার সমান অধিকার রয়েছে।”
স্মার্ট বাংলাদেশ ও মানবসম্পদ উন্নয়ন
শুধুমাত্র রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নয়, অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের রূপরেখাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে দক্ষ করে তুলতে সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করবে সরকার। দেশের তরুণ প্রজন্মকে দক্ষ ও স্বনির্ভর মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলাই হবে আগামী দিনের লক্ষ্য।
রমজানে স্বস্তির আশ্বাস
সামনেই পবিত্র রমজান মাস। এই উপলক্ষ্যে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জল সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে কড়া নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, রমজান হলো আত্মশুদ্ধির মাস, তাই সাধারণ মানুষকে কষ্ট না দিয়ে শান্তি ও সদিচ্ছা বজায় রাখাই প্রকৃত লক্ষ্য হওয়া উচিত।
নবনির্বাচিত সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ এবং সিনিয়র মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও প্রধানমন্ত্রীর সুরেই সুর মিলিয়েছেন। তাঁরা জানিয়েছেন, গণহিংসা বন্ধ করা এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই বর্তমান মন্ত্রিসভার শীর্ষ তিনটি অগ্রাধিকারের একটি। ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর নির্বাচনে জয়ের পর তারেক রহমানের এই ভাষণ দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন করে আশার আলো সঞ্চার করেছে।