রাজ্যসভার লড়াইয়ে মিঠুন চক্রবর্তী কি বিজেপির তুরুপের তাস? বিধানসভার আগে বাংলার ৫ আসনে মেগা ফাইট

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহাকাশে এখন রাজ্যসভা নির্বাচনের পারদ তুঙ্গে। আগামী ১৬ মার্চ রাজ্যের পাঁচটি শূন্য আসনে ভোটগ্রহণ হতে চলেছে, যা কি না আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে শাসক ও বিরোধী—উভয় শিবিরের কাছেই এক বিরাট অ্যাসিড টেস্ট। সংখ্যাতত্ত্বের বিচারে তৃণমূল কংগ্রেসের চারটি এবং বিজেপির একটি আসন পাওয়া কার্যত নিশ্চিত হলেও, পর্দার আড়ালে দানা বাঁধছে নতুন সমীকরণ। বিশেষ করে পদ্ম শিবিরে প্রার্থী হিসেবে মহাগুরু মিঠুন চক্রবর্তীর নাম নিয়ে যে জল্পনা শুরু হয়েছে, তা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
সংখ্যার পাটিগণিতে কার পাল্লা ভারি?
২৯৪ আসনের বিধানসভায় বর্তমানে তৃণমূল কংগ্রেসের হাতে রয়েছে ২১৮ জন বিধায়কের সমর্থন। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে বিরোধী শিবির থেকে ঘাসফুল শিবিরে নাম লেখানো কয়েকজন বিধায়কের সমর্থনও। ফলে চারটি আসনে জয় নিশ্চিত করতে শাসক দলের প্রার্থী পিছু প্রয়োজনীয় কোটার চেয়েও অনেক বেশি ভোট রয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঝুলিতে। অন্যদিকে, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ৭৭টি আসন জিতলেও দলবদল, বিধায়কদের মৃত্যু এবং উপনির্বাচনের জেরে বিজেপির বর্তমান বিধায়ক সংখ্যা এসে দাঁড়িয়েছে ৬৫-র আশেপাশে। তবে এই সংখ্যাটি একটি রাজ্যসভা আসন জেতার জন্য যথেষ্ট।
বাম-শূন্য হওয়ার পথে কি বাংলা?
এবারের নির্বাচনে সুব্রত বক্সী, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সাকেত গোখলের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। পাশাপাশি মৌসম বেনজির নুরের পদত্যাগের কারণে একটি আসন শূন্য হয়েছে। তবে সবচেয়ে বড় চমক হতে চলেছে বামফ্রন্টের অবস্থান নিয়ে। বর্ষীয়ান আইনজীবী ও সিপিআই(এম) নেতা বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর, বর্তমান বিধানসভার শক্তিতে বামেদের পক্ষে সেই আসন ধরে রাখা আসাম্ভব। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ১৯৫৮ সালের পর এই প্রথমবার রাজ্যসভায় পশ্চিমবঙ্গ থেকে কোনও বাম প্রতিনিধি না থাকার এক নজিরবিহীন পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।
প্রার্থী তালিকায় চমকের অপেক্ষা
তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে সুব্রত বক্সীর মতো অভিজ্ঞ নেতাদের পুনরায় মনোনয়নের সম্ভাবনা থাকলেও চূড়ান্ত তালিকায় নতুন কোনও চমক থাকে কি না, সেদিকে নজর রয়েছে সকলের। তবে সবথেকে বেশি চর্চা হচ্ছে বিজেপিকে ঘিরে। গেরুয়া শিবির কি লকেট চট্টোপাধ্যায়কে পাঠাবে নাকি ‘মিঠুন ম্যাজিক’-কে কাজে লাগিয়ে বিধানসভার আগে বড় কোনও চাল চালবে? মিঠুন চক্রবর্তীর নাম প্রার্থী হিসেবে উঠে আসায় রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
| আসন সংখ্যা | সম্ভাব্য বিজয়ী দল | মূল ফোকাস |
| ০৪ টি আসন | তৃণমূল কংগ্রেস | সাংগঠনিক আধিপত্য বজায় রাখা |
| ০১ টি আসন | বিজেপি | প্রধান বিরোধী শক্তি হিসেবে উপস্থিতি জানান দেওয়া |
বিধানসভার মহড়া
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই নির্বাচন কেবল সংসদের উচ্চকক্ষে প্রতিনিধি পাঠানোর লড়াই নয়, বরং এটি একটি মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ। বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার ঠিক আগে এই ভোট দলগুলির অভ্যন্তরীণ সংহতি এবং রণকৌশল পরখ করে নেওয়ার শেষ সুযোগ। বিধায়কদের ভোট নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যেই দলগতভাবে হুইপ জারির প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। সংখ্যার লড়াইয়ে ফলাফল অনেকটা স্পষ্ট হলেও, মিঠুন চক্রবর্তীর মতো নাম বা বামেদের সম্ভাব্য অনুপস্থিতি এই নির্বাচনকে বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে চিহ্নিত করছে।
রাজ্যসভার এই লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত কারা দিল্লির টিকিট পান এবং মিঠুন চক্রবর্তীকে নিয়ে চলা জল্পনা বাস্তবে রূপ নেয় কি না, এখন সেটাই দেখার।