ভোটের আগে রণক্ষেত্র বাংলা! ১ লক্ষ ১৫ হাজার নথি গায়েব হতেই কমিশনের চরম হুঁশিয়ারি

নিউজ ডেস্ক
রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজতেই প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য। ভোটার তালিকার নথিপত্র আপলোড করা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের নজিরবিহীন কড়া অবস্থান এবং বিজেপির আসন্ন ‘পরিবর্তন রথযাত্রা’—এই দুই ইস্যুকে কেন্দ্র করে সরগরম বাংলার রাজনীতি।
কমিশনের রোষানলে আধিকারিকরা! কেন এই শোকজ নোটিস
রাজ্যে চলমান ভোটার তালিকা সংশোধন বা SIR প্রক্রিয়ায় চরম গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে। শুনানি শেষ হওয়ার চার দিন পার হয়ে গেলেও প্রায় ১ লক্ষ ১৫ হাজার ভোটারের নথি এখনও অনলাইনে আপলোড করা হয়নি। এই বিপুল পরিমাণ তথ্য কেন ঝুলে রয়েছে, তা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে ভারতের নির্বাচন কমিশন (ECI)।
কমিশন সূত্রে খবর, সংশ্লিষ্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ERO) এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারদের (AERO) বিরুদ্ধে শোকজ নোটিস জারি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে যে, বহু আবেদন নির্দিষ্ট কারণ না দেখিয়েই খারিজ করা হয়েছে এবং কিছু এলাকায় রহস্যজনকভাবে সিস্টেম বিকল হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। কমিশনের স্পষ্ট নির্দেশ ছিল, আবেদন বাতিল করলে তার লিখিত কারণ জানাতে হবে, যা অনেক ক্ষেত্রেই মানা হয়নি। এই প্রশাসনিক স্থবিরতা বরদাস্ত করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে কমিশন।
তৃণমূলের নিশানায় স্পেশাল রোল অবজারভার
অন্যদিকে, ভোটার তালিকা সংশোধনকে কেন্দ্র করে তৃণমূল কংগ্রেস ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে সংঘাতের আবহ তৈরি হয়েছে। স্পেশাল রোল অবজারভার সি. মুরুগনের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে শাসকদল। তৃণমূলের দাবি, মুরুগন হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে আধিকারিকদের নিয়মবহির্ভূত নির্দেশ দিচ্ছেন। এই অভিযোগে তাঁর পদত্যাগের দাবিও তোলা হয়েছে। যদিও মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল জানিয়েছেন, মুরুগন কেবল কমিশনের নির্দেশ ব্যাখ্যা করেছেন, আলাদা কোনো নির্দেশ দেননি। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
বিজেপির মাস্টারস্ট্রোক! ৫০০০ কিমি পথে নামছে ‘পরিবর্তন রথযাত্রা’
নির্বাচনের ময়দানে কোমর বেঁধে নামছে গেরুয়া শিবিরও। রাজ্যজুড়ে ‘পরিবর্তন রথযাত্রা’র ডাক দিয়েছে বিজেপি। বঙ্গ বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, ১ মার্চ কোচবিহার দক্ষিণ থেকে এই মেগা কর্মসূচির সূচনা হবে। ১ ও ২ মার্চ বিভিন্ন বিধানসভা থেকে যাত্রা শুরু হলেও ৩ ও ৪ মার্চ দোল উৎসবের জন্য কর্মসূচি স্থগিত থাকবে।
এরপর ৫ থেকে ১০ মার্চের মধ্যে রাজ্যের প্রতিটি কোণ ছোঁবে এই রথযাত্রা। প্রায় ৫,০০০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করবে বিজেপির ট্যাবলো। এই সময়ের মধ্যে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ৩৬০টি জনসভা করার পরিকল্পনা রয়েছে দলের।
ব্রিগেডে মোদীর মেগা শো এবং বসন্ত উৎসবের আমেজ
এই রথযাত্রার চূড়ান্ত সমাপ্তি ঘটবে কলকাতার ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে। সেখানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এছাড়াও কেন্দ্রীয় হেভিওয়েট মন্ত্রীরা যাত্রার বিভিন্ন পর্যায়ে অংশ নেবেন।
এদিকে রাজনীতির উত্তাপের মাঝেই বসন্ত উৎসবের প্রস্তুতিতে মাতছে বাংলা। নাচ, গান আর আবিরের রঙে লক্ষ লক্ষ মানুষের সমাগমে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করা হয়েছে। রাজনীতির লড়াই আর উৎসবের আমেজ—সব মিলিয়ে এক টানটান উত্তেজনার অপেক্ষায় পশ্চিমবঙ্গ।