এপস্টাইন ফাইলস বিতর্কের জের নাকি অন্য কিছু? শেষ মুহূর্তে ভারতের এআই সামিট থেকে সরে দাঁড়ালেন বিল গেটস

এপস্টাইন ফাইলস বিতর্কের জের নাকি অন্য কিছু? শেষ মুহূর্তে ভারতের এআই সামিট থেকে সরে দাঁড়ালেন বিল গেটস

নয়াদিল্লি: বিশ্বজুড়ে যখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর ভবিষ্যৎ নিয়ে তোলপাড় চলছে, ঠিক তখনই ভারতের মাটিতে আয়োজিত ‘ইন্ডিয়া এআই ইমপ্যাক্ট সামিট ২০২৬’ ঘিরে দানা বাঁধল বড়সড় বিতর্ক। অনুষ্ঠানের মাত্র ২৪ ঘণ্টা আগে সবাইকে চমকে দিয়ে নিজের পূর্বনির্ধারিত ভাষণ বাতিল করলেন মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস। একদিকে জেফরি এপস্টাইনের সঙ্গে নাম জড়ানো নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে অস্বস্তি, অন্যদিকে ভারতের মাটিতে তাঁকে ঘিরে নেটিজেনদের একাংশের ক্ষোভ— এই দ্বিমুখী চাপের মুখেই কি পিছু হঠলেন ধনকুবের এই সমাজসেবী? উঠছে একাধিক প্রশ্ন।

হঠাৎ কেন এই ইউ-টার্ন?

মাত্র একদিন আগেই বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের তরফে দৃঢ়ভাবে জানানো হয়েছিল যে, বিল গেটস ভারত মণ্ডপমে তাঁর নির্ধারিত কি-নোট ভাষণ দেবেন। কিন্তু বুধবার আচমকাই সুর বদলায় সংস্থাটি। ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ‘সতর্ক বিবেচনার পর’ এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যাতে মূল সামিটের গুরুত্ব এবং আলোচনার বিষয়বস্তু থেকে মানুষের নজর না ঘোরে। গেটসের পরিবর্তে এখন এই মঞ্চে বক্তব্য রাখবেন সংস্থার আফ্রিকা ও ভারত শাখার প্রধান অঙ্কুর ভোরা। যদিও ভারতের স্বাস্থ্য ও উন্নয়নমূলক প্রকল্পে বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি বজায় থাকবে বলে জানানো হয়েছে, তবে এই আকস্মিক বিচ্যুতিকে ভালোভাবে দেখছেন না কূটনৈতিক ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা।

ছায়া ফেলছে এপস্টাইন ফাইলস বিতর্ক

তদন্তকারী সংস্থাগুলির প্রকাশ করা ‘এপস্টাইন ফাইলস’-এ যৌন কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত প্রয়াত জেফরি এপস্টাইনের সঙ্গে বিল গেটসের নাম একাধিকবার উঠে এসেছে। যদিও গেটস ব্যক্তিগতভাবে এই সমস্ত অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন ও হাস্যকর’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন, তবুও সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁকে নিয়ে ট্রোলিং ও সমালোচনার ঝড় থামেনি। বিশেষ করে ভারতের মতো বড় মঞ্চে গেটসের উপস্থিতি এই বিতর্ককে আরও উসকে দিতে পারত বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। সামিটের গরিমা রক্ষা করতেই কি তবে তাঁকে সরিয়ে রাখা হলো, সেই জল্পনা এখন তুঙ্গে।

অন্ধ্রপ্রদেশ সফর ও ‘ল্যাবরেটরি’ কটাক্ষ

চলতি সপ্তাহেই অন্ধ্রপ্রদেশের গন্নাভরম বিমানবন্দরে বিল গেটসকে রাজকীয় সংবর্ধনা জানান মন্ত্রী নারা লোকেশ। অমরাবতীতে তাঁকে স্বাগত জানিয়ে লোকেশ পোস্ট করলেও, সাধারণ মানুষের একাংশ তীব্র প্রতিবাদ জানান। অভিযোগ ওঠে, গেটস এবং তাঁর ফাউন্ডেশন ভারতকে তাঁদের বিভিন্ন পরীক্ষার ‘ল্যাবরেটরি’ হিসেবে ব্যবহার করছে। ভারতীয়দের ‘গিনিপিগ’ বানানোর এই পুরনো অভিযোগ সোশ্যাল মিডিয়ায় ফের মাথাচাড়া দেওয়ায় গেটসের ভারত সফর নিয়ে তৈরি হয়েছিল নেতিবাচক আবহ।

নক্ষত্রখচিত এআই সামিট

বিল গেটস সরে দাঁড়ালেও ভারত মণ্ডপমের এই চার দিনের মেগা ইভেন্টে জৌলুস কমছে না। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎ রূপরেখা নির্ধারণে এই সামিটে উপস্থিত থাকছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইম্যানুয়েল ম্যাক্রঁ এবং রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। এছাড়াও প্রযুক্তি বিশ্বের দিকপাল স্যাম অল্টম্যান এবং ভারতের বিজনেস টাইকুন মুকেশ আম্বানির মতো ব্যক্তিত্বরা এই মঞ্চ আলোকিত করবেন। তবে এত সব মহারথীদের ভিড়েও বিল গেটসের শেষ মুহূর্তের প্রস্থানই এখন সবথেকে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *