অষ্টম পে কমিশন নিয়ে বিরাট খবর, সরকারি কর্মীদের কপাল খুলছে

নিউজ ডেস্ক। ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসটি কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী এবং পেনশনভোগীদের জন্য এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণ হতে চলেছে। অষ্টম পে কমিশন (8th Pay Commission) গঠনের তোড়জোড় শুরু হতেই দেশজুড়ে নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। বিশেষ করে, কর্মচারী ইউনিয়নগুলোর পক্ষ থেকে ৩.২৫ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরের (Fitment Factor) যে জোরালো দাবি তোলা হয়েছে, তা কার্যকর হলে কর্মীদের জীবনযাত্রার মান ও অর্থনৈতিক কাঠামোতে আমূল পরিবর্তন আসতে চলেছে।
ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর কী এবং কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ?
সহজ ভাষায়, ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর হলো একটি গাণিতিক গুণক, যা কর্মীদের বর্তমান মূল বেতনের ওপর প্রয়োগ করে নতুন মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়। সপ্তম পে কমিশনে এই ফ্যাক্টর ছিল ২.৫৭। কিন্তু বর্তমানের ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি এবং আকাশছোঁয়া জীবনযাত্রার ব্যয়ের কথা মাথায় রেখে ফেডারেশন অফ ন্যাশনাল পোস্টাল অর্গানাইজেশনসহ (FNPO) বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় কর্মচারী সংগঠন এবার ৩.২৫ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরের দাবি জানিয়েছে। যদি কেন্দ্রীয় সরকার এই প্রস্তাব গ্রহণ করে, তবে বেতন বৃদ্ধির হার হবে নজিরবিহীন।
বেতন বৃদ্ধির সম্ভাব্য পরিসংখ্যান
বর্তমানে সপ্তম পে কমিশনের অধীনে একজন কর্মীর সর্বনিম্ন মূল বেতন ১৮,০০০ টাকা। যদি ৩.২৫ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর অনুমোদিত হয়, তবে সেই অংকটি লাফিয়ে পৌঁছাতে পারে ৫৮,৫০০ টাকায়। এর ফলে বিভিন্ন স্তরের কর্মীদের বেতনে ২০% থেকে ৪৫% পর্যন্ত এককালীন বড়সড় উল্লম্ফন দেখা যেতে পারে। একনজরে দেখে নিন সম্ভাব্য বেতন কাঠামো:
- লেভেল ১ (সর্বনিম্ন): বর্তমান ১৮,০০০ টাকা থেকে বেড়ে হতে পারে ৫৮,৫০০ টাকা।
- লেভেল ৫: এই স্তরের কর্মীদের সম্ভাব্য বেতন দাঁড়াতে পারে ৮৭,৬০০ টাকা।
- লেভেল ১০: গেজেটেড অফিসারদের বেতন একলাফে বেড়ে হতে পারে প্রায় ১.৭৩ লক্ষ টাকা।
- লেভেল ১৮ (সর্বোচ্চ): ক্যাবিনেট সচিব পর্যায়ের সর্বোচ্চ বেতন ৮.১২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত স্পর্শ করতে পারে।
পেনশনভোগীদের জন্য সুখবর ও ‘অ্যাক্রয়েড ফর্মুলা’
শুধু বর্তমান কর্মীরাই নন, এই নতুন বেতন কাঠামো পেনশনভোগীদের জন্যও আশীর্বাদ বয়ে আনবে। ৩.২৫ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর কার্যকর হলে বর্তমানে প্রাপ্ত সর্বনিম্ন ৯,০০০ টাকা পেনশন বেড়ে ২০,৫০০ থেকে ২৫,৭৪০ টাকার মধ্যে হতে পারে। এই পুরো হিসাবটি মূলত ‘অ্যাক্রয়েড ফর্মুলা’ (Aykroyd Formula)-র ওপর ভিত্তি করে তৈরি, যা একটি পরিবারের পুষ্টি, স্বাস্থ্য এবং জীবনযাত্রার নূন্যতম প্রয়োজনীয়তাকে বৈজ্ঞানিক মানদণ্ডে বিচার করে।
পরবর্তী পদক্ষেপ ও গুরুত্বপূর্ণ তারিখ
অষ্টম পে কমিশনের খসড়া কমিটি আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসতে চলেছে। এছাড়া কর্মীদের দাবি ও মতামত জমা দেওয়ার শেষ তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ১৬ মার্চ ২০২৬। সরকার শেষ পর্যন্ত ৩.২৫ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর অনুমোদন করবে নাকি মাঝপথে কোনো আপস ফর্মুলা বের করবে, তার ওপর নির্ভর করছে কোটি কোটি সরকারি কর্মচারীর আগামী দশকের আর্থিক ভবিষ্যৎ।