ধর্মতলায় ভোলবদল! ঝাঁ চকচকে নতুন বাস স্ট্যান্ডে কী কী রাজকীয় সুবিধা পাচ্ছেন যাত্রীরা

কলকাতা তথা গোটা রাজ্যের পরিবহন মানচিত্রে এক বড়সড় বদল এল। ধর্মতলায় এখন থেকে যাত্রীদের অভিজ্ঞতায় যোগ হতে চলেছে এক নতুন মাত্রা। জোকা-এসপ্ল্যানেড মেট্রো প্রকল্পের কাজের স্বার্থে পুরনো ডিপো সরিয়ে বৃহস্পতিবার থেকেই পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হয়ে গেল এসপ্ল্যানেডের অত্যাধুনিক সরকারি বাস স্ট্যান্ড। এসপ্ল্যানেড মেট্রো স্টেশন এবং রানি রাসমণি অ্যাভিনিউয়ের ঠিক মাঝখানের অংশে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলা হয়েছে এই নয়া টার্মিনাস।
মেট্রোর স্বার্থেই এই মেকওভার
এতদিন যে পুরনো ডিপো থেকে দক্ষিণবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগম (SBSTC), উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগম (NBSTC) এবং কলকাতা ট্রাম কো ম্পা নির বাস চলত, সেটি জোকা-এসপ্ল্যানেড মেট্রো করিডরের ভূগর্ভস্থ স্টেশন তৈরির পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছিল। রেল বিকাশ নিগম লিমিটেড (RVNL) দ্রুত কাজ শেষ করার লক্ষ্যেই এই বিকল্প পরিকাঠামো তৈরি করে দিয়েছে। এর ফলে এখন থেকে মেট্রোর সুড়ঙ্গ তৈরির কাজ আরও গতি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
যা যা সুবিধা থাকছে নতুন টার্মিনাসে
যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে এই নতুন বাস স্ট্যান্ডে রাখা হয়েছে একগুচ্ছ আধুনিক ব্যবস্থা। এক নজরে দেখে নিন কী কী পাবেন এখানে:
- বাতানুকূল ওয়েটিং রুম: দূরপাল্লার যাত্রীদের জন্য রয়েছে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত আরামদায়ক বিশ্রামাগার। শুধু যাত্রীরাই নন, বাসচালক ও কর্মীদের জন্য তৈরি করা হয়েছে পৃথক বাতানুকূল ঘর।
- পৃথক বুকিং কাউন্টার: উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের বাসের জন্য আলাদা টিকিট বুকিং কাউন্টার করা হয়েছে, যাতে ভিড় সামাল দেওয়া সহজ হয়।
- ডিজিটাল ডিসপ্লে ও ঘোষণা: বাসের সময়সূচী এবং অবস্থান জানতে থাকছে তিনটি বড় ডিজিটাল ডিসপ্লে বোর্ড। সেই সঙ্গে যাত্রীদের সজাগ রাখতে লাগানো হয়েছে উন্নত পাবলিক অ্যাড্রেস সিস্টেম।
- প্রবেশ ও প্রস্থান: বাসের যাতায়াত মসৃণ রাখতে রানি রাসমণি অ্যাভিনিউয়ের ধর্মতলামুখী লেনে রাখা হয়েছে প্রশস্ত এন্ট্রি ও এক্সিট পয়েন্ট।
- অন্যান্য পরিষেবা: এখানে থাকছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ‘পে অ্যান্ড ইউজ’ টয়লেট। এছাড়া পশ্চিমবঙ্গ শিশু অধিকার রক্ষা কমিশনের আধিকারিকদের ব্যবহারের জন্য রাখা হয়েছে একটি বিশেষ কক্ষ।
পুরনো জরাজীর্ণ ডিপোর বদলে এই নতুন ঝকঝকে বাস স্ট্যান্ডটি ধর্মতলার ভিড় সামলানোর পাশাপাশি সাধারণ যাত্রীদের যাতায়াতকেও অনেক বেশি আরামদায়ক করে তুলবে বলে মনে করছে পরিবহন দপ্তর।