আনন্দপুরের অগ্নিকাণ্ডে ১৮ লাশের পরিচয় মিলল ডিএনএ ম্যাপিংয়েই

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা
পূর্ব কলকাতার আনন্দপুরে গত ২৬ জানুয়ারির সেই অভিশপ্ত ভোরের স্মৃতি আজও টাটকা। নাজিরাবাদের একটি জনপ্রিয় মোমো প্রস্তুতকারক সংস্থা এবং একটি ডেকোরেটর্সের গুদামে লাগা সেই ভয়াবহ আগুনে প্রাণ হারিয়েছিলেন বহু মানুষ। তবে আগুনের লেলিহান শিখা দেহগুলোকে এতটাই বিকৃত করে দিয়েছিল যে, সাধারণ উপায়ে তাঁদের শনাক্ত করা আসাম্ভব হয়ে পড়েছিল। অবশেষে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সহায়তায় জট কাটতে শুরু করেছে। ডিএনএ (DNA) ম্যাপিংয়ের মাধ্যমে ১৮ জনের দেহ শনাক্ত করতে সফল হয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
পুলিশ ও প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডের পর নিখোঁজ হিসেবে মোট ২৭ জনের নাম নথিভুক্ত হয়েছিল। পরিচয়হীন ও দগ্ধ দেহগুলো শনাক্ত করার জন্য তাঁদের নিকটাত্মীয়দের রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে ডিএনএ পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ১৮ জনের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। এই ১৮ জনের মধ্যে ১৪ জনই পূর্ব মেদিনীপুরের বাসিন্দা বলে জানা গেছে। পেটের টানে গ্রাম ছেড়ে শহরে আসা এই শ্রমিকদের বাড়িতে এখন শোকের ছায়া।
বাকি নিখোঁজদের পরিচয় উদ্ধার করতে ফরেনসিক ল্যাবে এখনও ডিএনএ ম্যাপিংয়ের কাজ নিরন্তর চলছে। মৃতদেহগুলো তাঁদের পরিবারের হাতে তুলে দেওয়ার আইনি প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। গত ২৬ জানুয়ারির সেই ভোররাতে নাজিরাবাদের জোড়া গুদামে কীভাবে এই মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ড ঘটল, তা নিয়ে এখনও তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে দমকল এবং ফরেনসিক বিভাগ। তবে আপাতত বিজ্ঞানের সাহায্যেই স্বজনহারা পরিবারগুলো তাঁদের প্রিয়জনের শেষ চিহ্নটুকু ফিরে পাচ্ছেন।