আট ম্যাচে পাঁচবার শূন্য তবুও সূর্যকুমার যাদবের ভরসা পাচ্ছেন অভিষেক শর্মা

টিম ইন্ডিয়ার বিস্ফোরক ওপেনার অভিষেক শর্মার ব্যাটে যেন রানের খরা দেখা দিয়েছে। নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে ম্যাচটি নিয়মরক্ষার হলেও ক্রিকেট মহলের নজর ছিল এই বাঁহাতি ব্যাটারের ওপর। কিন্তু প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়ে আবারও হতাশ করলেন তিনি। চলতি বিশ্বকাপে টানা তিন ম্যাচে একটি রানও সংগ্রহ করতে পারেননি অভিষেক, উল্টে তাঁর নামের পাশে যুক্ত হলো লজ্জাজনক ‘শূন্যের হ্যাটট্রিক’। গত আটটি টি-টোয়েন্টি ইনিংসে তাঁর রান যথাক্রমে ৮৪, ০, ৬৮*, ০, ৩০, ০, ০ এবং ০। অর্থাৎ আট ইনিংসের মধ্যে পাঁচবারই খাতা খোলার আগে প্যাভিলিয়নে ফিরতে হয়েছে তাঁকে।
অভিষেকের এই শোচনীয় ফর্ম নিয়ে চারদিকে সমালোচনার ঝড় উঠলেও ভারত অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব আপাতত উদ্বেগের কোনও কারণ দেখছেন না। তবে তিনি পরোক্ষভাবে দলের প্রতি দায়বদ্ধতা ও দায়িত্বের কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন। নেদারল্যান্ডসকে ১৭ রানে হারিয়ে অপরাজিত থেকে সুপার এইটে পা রেখেছে ভারত। কিন্তু শুরুতেই টপ অর্ডারের উইকেট হারিয়ে ফেলায় টিম ম্যানেজমেন্টের কপালে চিন্তার ভাঁজ স্পষ্ট। পিচ পড়তে ভুল হচ্ছে কি না, সেই প্রশ্নে অধিনায়ক বলেন, “পরের ম্যাচগুলোতেও আমাদের এমন কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হতে পারে। ব্যাটারদের বুঝতে হবে কীভাবে দায়িত্ব নিয়ে ইনিংস এগিয়ে নিয়ে যেতে হয়। আমি এবং তিলক পরিস্থিতি অনুযায়ী সময় নিয়ে খেলেছি কারণ আমরা জানতাম আমাদের পরে বড় শট খেলার মতো ব্যাটার আছে।” সূর্যের এই বক্তব্যে নাম না নিলেও অভিষেকের দায়িত্বজ্ঞানহীন শট নির্বাচন নিয়ে প্রচ্ছন্ন বার্তা রয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
অন্যদিকে, শিবম দুবের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন অধিনায়ক। একটা সময় ১১০ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা ভারতকে টেনে তোলেন দুবে এবং হার্দিক পাণ্ডিয়া। শিবম দুবে মাত্র ৩১ বলে ৬৬ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন, যার মধ্যে ছিল ৪টি চার এবং ৬টি বিশাল ছক্কা। হার্দিক পাণ্ডিয়াও ২১ বলে গুরুত্বপূর্ণ ৩০ রান যোগ করেন। দুবের পারফরম্যান্সে মুগ্ধ সূর্য বলেন, “বিশাখাপত্তনমে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধেও ও দুর্দান্ত খেলেছিল। আজও যেভাবে ও দলকে ১৯০ রানের ল্যান্ডমার্কে পৌঁছে দিল, তা সত্যিই অবিশ্বাস্য।”
অপেক্ষাকৃত দুর্বল প্রতিপক্ষ হলেও নেদারল্যান্ডসের লড়াকু মানসিকতা ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের প্রশংসা কুড়িয়েছে। ভারত ম্যাচ জিতলেও আত্মতুষ্টিতে ভুগতে নারাজ অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব। তাঁর মতে, প্রতিটি ম্যাচই কিছু না কিছু শেখার সুযোগ করে দেয়। তবে দলের বোলিং বিভাগে অতিরিক্ত বিকল্প থাকাটা তাঁর কাছে একটি ‘মধুর মাথাব্যথা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সূর্যের কথায়, “দলে যখন বোলিংয়ের অনেক অপশন থাকে, তখন সেটি দলের জন্য স্বাস্থ্যকর। পিচের চরিত্র অনুযায়ী সঠিক বোলার বেছে নেওয়া সহজ হয়। সামগ্রিকভাবে দলের পারফরম্যান্সে আমি খুশি, তবে আমি চাই দলের প্রত্যেক সদস্য যেন নিয়মিত অবদান রাখে।”
অভিষেক শর্মা কি পারবেন সুপার এইটের লড়াইয়ে নিজের ছন্দ ফিরে পেতে, নাকি শূন্যের এই বেড়াজালে আটকে পড়ে হারাবেন প্রথম একাদশের জায়গা? এখন সেটাই দেখার অপেক্ষায় ভারতীয় ক্রিকেট প্রেমীরা।