ভারতীয় ইউপিআই ম্যাজিকে মুগ্ধ ফরাসি প্রেসিডেন্ট

ভারতীয় ইউপিআই ম্যাজিকে মুগ্ধ ফরাসি প্রেসিডেন্ট

নয়াদিল্লিতে আয়োজিত আন্তর্জাতিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্মেলনের মঞ্চে দাঁড়িয়ে ভারতের ডিজিটাল বিপ্লবের ভূয়সী প্রশংসা করলেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইম্যানুয়েল ম্যাক্রোঁ। বিশেষ করে ভারতের তাৎক্ষণিক ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থা বা ইউপিআই প্রযুক্তির জয়গান গেয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, ভারত এমন এক অনন্য ডিজিটাল পরিকাঠামো গড়ে তুলেছে যা বিশ্বের অন্য কোনো দেশ করে দেখাতে পারেনি।

মুম্বইয়ের পথবিক্রেতা থেকে ডিজিটাল ইন্ডিয়া

নিজের ভাষণে ম্যাক্রোঁ ১০ বছর আগের ভারতের সাথে বর্তমান ভারতের এক তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এক দশক আগে মুম্বইয়ের একজন সাধারণ পথবিক্রেতার পক্ষে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলা বা পরিচয়পত্র জোগাড় করা ছিল প্রায় আসাম্ভব। কিন্তু আজ সেই চিত্র আমূল বদলে গেছে। ডিজিটাল ইন্ডিয়া এবং ইউপিআই-এর দৌলতে সেই সাধারণ মানুষটিই আজ মোবাইল ফোনের মাধ্যমে মুহূর্তের মধ্যে কোনো খরচ ছাড়াই সারা দেশের সাথে আর্থিক লেনদেন করছেন। ১৪০ কোটি মানুষের জন্য তৈরি এই ডিজিটাল পরিচয় ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তিকে বিশ্বমঞ্চে এক অভাবনীয় সাফল্য হিসেবে বর্ণনা করেন তিনি।

মোদীর সাথে সেই চায়ের আড্ডা ও ইউপিআই অভিজ্ঞতা

ভারতের এই ডিজিটাল শক্তির সাথে ম্যাক্রোঁর পরিচয় অবশ্য নতুন নয়। ২০২৪ সালের রাষ্ট্রীয় সফরে রাজস্থানের জয়পুরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সাথে কাটানো মুহূর্তগুলোর কথা স্মরণ করেন তিনি। সেখানে হাওয়া মহলের সামনে একটি দোকানে কুলহড়ে চা খাওয়ার পর মোদী যখন মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ইউপিআই ব্যবহার করে বিল মেটান, তখন সেই প্রযুক্তির গতি ও সরলতা দেখে রীতিমতো বিস্মিত হয়েছিলেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট। সেই অভিজ্ঞতাই আজ তাঁকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের প্রশংসা করতে উদ্বুদ্ধ করেছে।

ইউরোপের প্রবেশদ্বার এখন ফ্রান্স

২০২৩ সালের জুলাই মাসে প্রধানমন্ত্রী মোদী ঘোষণা করেছিলেন যে খুব শীঘ্রই ফ্রান্সে ভারতীয় পর্যটকরা ইউপিআই ব্যবহার করতে পারবেন। সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবে রূপ নেয় ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে। এনপিসিআই ইন্টারন্যাশনাল পেমেন্টস লিমিটেড এবং ফরাসি সংস্থা লাইরার মধ্যে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে ফ্রান্সই হয়ে ওঠে ইউরোপের প্রথম দেশ যারা ভারতের এই ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থাকে গ্রহণ করে। বর্তমানে ফ্রান্সে থাকা ভারতীয় পর্যটক ও পড়ুয়ারা অত্যন্ত স্বাচ্ছন্দ্যে নিজেদের ইউপিআই অ্যাপ ব্যবহার করে কেনাকাটা ও অন্যান্য লেনদেন সারতে পারছেন।

আগামীর দিশারি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্মেলন

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ধন্যবাদ জানিয়ে ম্যাক্রোঁ বলেন, এই সম্মেলন ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর সঠিক ব্যবহারে বিশ্বকে পথ দেখাবে। ডিজিটাল উদ্ভাবন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের ক্ষেত্রে ভারত যেভাবে নেতৃত্ব দিচ্ছে, তা বর্তমান বিশ্বের জন্য এক বড় উদাহরণ। ম্যাক্রোঁর এই ধারাবাহিক প্রশংসা প্রমাণ করে দিচ্ছে যে ভারতের প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ এখন কেবল দেশের সীমানায় সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা বিশ্বজয়ের পথে এগিয়ে চলেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *