স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে রণক্ষেত্র হাড়োয়া, সালিশি সভায় রক্তারক্তি কাণ্ডে জখম ৫

উত্তর ২৪ পরগনার হাড়োয়ায় স্বামীর দ্বিতীয় বিয়েকে কেন্দ্র করে পারিবারিক বিবাদ চরম আকার ধারণ করল। দীর্ঘদিনের এই বিবাদ মেটাতে আয়োজিত সালিশি সভা মুহূর্তের মধ্যেই রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ৫ জন গুরুতর জখম হয়েছেন বলে খবর। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে।
প্রেমের বিয়েতে দ্বিতীয় নারীর প্রবেশ
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, হাড়োয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের কালিকাপুর গ্রামের বাসিন্দা আসাদুল কাজির সঙ্গে রিম্পা বিবির বিয়ে হয়েছিল প্রায় আট বছর আগে। তাঁদের দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক শেষ পর্যন্ত পরিণয়ে রূপ নিয়েছিল। তবে বিয়ের কয়েক বছর পর থেকেই সম্পর্কে ফাটল ধরতে শুরু করে। আসাদুলের পরিবারের দাবি, রিম্পা মাঝেমধ্যেই কাউকে না জানিয়ে বাড়ি থেকে চলে যেতেন, আবার কিছু দিন পর ফিরে আসতেন। এই অস্থিরতার মাঝেই আসাদুল দ্বিতীয়বার বিয়ে করেন। আর এই দ্বিতীয় বিয়ে ঘিরেই শুরু হয় অশান্তির সূত্রপাত।
সালিশি সভা যখন কুরুক্ষেত্র
বিবাদ মেটাতে এর আগেও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা একাধিকবার হস্তক্ষেপ করেছিলেন। তবে সমস্যা সমাধান না হওয়ায় শেষবারের মতো একটি সালিশি সভার আয়োজন করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বৈঠক শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ পর থেকেই দুই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ শুরু হয়। মুহূর্তের মধ্যেই সেই বাগবিতণ্ডা হাতাহাতি এবং পরবর্তীতে বড়সড় সংঘর্ষে রূপ নেয়। সভা ঘরের ভেতরেই দুই পক্ষ একে অপরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলার জেরে দুই পক্ষের অন্তত পাঁচজন রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়েন।
বাড়ি ভাঙচুর ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ
ঘটনার রেশ সালিশি সভার বাইরেও গড়ায়। আসাদুলের পরিবারের অভিযোগ, সভা থেকে ফেরার পর রিম্পার বাপের বাড়ির লোকজন তাঁদের বাড়িতে চড়াও হয়। ঘরবাড়ি ভাঙচুর করার পাশাপাশি মহিলাদের চুল ধরে মারধর ও শ্লীলতাহানি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে আহতরা স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।