রনজি ট্রফি থেকে বাংলার বিদায় কি ইতি টানল লক্ষ্মী-যুগের, নতুন কোচের সন্ধানে সিএবি

রনজি ট্রফি থেকে বাংলার বিদায় কি ইতি টানল লক্ষ্মী-যুগের, নতুন কোচের সন্ধানে সিএবি

কলকাতা: বঙ্গ ক্রিকেটের আকাশে এখন শুধুই বিষণ্ণতার মেঘ। দু’দিন আগেও যেখানে ইডেন উদ্যান রনজি জয়ের স্বপ্নে বিভোর ছিল, সেখানে মঙ্গলবার মাত্র আড়াই ঘণ্টার ব্যাটিং বিপর্যয়ে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল সেই স্বপ্ন। জম্মু-কাশ্মীরের বিরুদ্ধে সেমিফাইনালে হারের ক্ষত এতটাই গভীর যে, এখন বড়সড় রদবদলের জল্পনা শুরু হয়েছে সিএবি করিডোরে। বিশেষ করে প্রশ্ন উঠছে, আগামী মরশুমেও কি বাংলার হেড কোচের হটসিটে দেখা যাবে লক্ষ্মীরতন শুক্লাকে?

স্বপ্নভঙ্গের আড়াই ঘণ্টা এবং লক্ষ্মীর ভবিষ্যৎ

গ্রুপ পর্বে সব দলের চেয়ে বেশি পয়েন্ট পেয়ে নক-আউটে উঠেছিল বাংলা। লক্ষ্মীর কোচিংয়ে দল একবার ফাইনাল এবং একবার সেমিফাইনাল খেলেছে। কিন্তু ঘরের মাঠে কর্ণাটকের বিরুদ্ধে ফাইনাল খেলার যে ছক কষা হচ্ছিল, তা এক লহমায় ধুলিসাৎ হয়ে গিয়েছে। ময়দানের গুঞ্জন, এই হারের পর কোচ হিসেবে আর দায়িত্ব চালিয়ে যেতে চাইছেন না খোদ লক্ষ্মী। পরাজয়ের গ্লানি নিয়ে সরে দাঁড়ানোর মানসিকতা তৈরি হয়েছে তাঁর মধ্যে।

কোচের দায় নাকি অভিজ্ঞদের ব্যর্থতা

সিএবি কর্তাদের একটি বড় অংশ অবশ্য লক্ষ্মীর পাশেই দাঁড়াচ্ছেন। তাঁদের যুক্তি, যে দলে একশোর কাছাকাছি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলা অভিজ্ঞ ক্রিকেটাররা রয়েছেন, তাঁদের মাঠের পারফরম্যান্সের দায় কোচের ওপর চাপানো অনুচিত। ব্যাটিংয়ের ‘অ-আ-ক-খ’ শেখানোর বয়স তো আর এই সিনিয়রদের নেই। টানা ভালো খেলার পর মাত্র আড়াই ঘণ্টার ব্যর্থতার জন্য সফল একজন কোচকে সরিয়ে দেওয়া যুক্তিহীন বলেই মনে করছেন অনেকে।

উঠে আসছে নতুন একগুচ্ছ নাম

লক্ষ্মী যদি নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন, তবে বাংলার পরবর্তী কোচ কে হবেন? ক্রিকেট মহলে ইতিমধ্যেই তিনটি হাই-প্রোফাইল নাম ঘোরাফেরা করছে:

  • চন্দ্রকান্ত পণ্ডিত: ঘরোয়া ক্রিকেটের ‘দ্য মিডাস টাচ’ খ্যাত এই কোচকে বাংলা দলে আনার একটা প্রচ্ছন্ন চেষ্টা রয়েছে।
  • সুলক্ষণ কুলকার্নি: তামিলনাড়ু ও মহারাষ্ট্রের কোচ হিসেবে তাঁর অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে চাইছেন কর্তারা।
  • ঋদ্ধিমান সাহা: সবথেকে বড় চমক হতে পারে ঋদ্ধির নাম। খেলোয়াড় জীবন থেকে সরাসরি কোচিং বা মেন্টর হিসেবে তাঁকে ফেরানোর ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সিএবি-র হাতে

তড়িঘড়ি কোনো সিদ্ধান্ত নিতে নারাজ সিএবি সভাপতি ও অন্য কর্তারা। আগে তাঁরা লক্ষ্মীরতন শুক্লার সঙ্গে একান্তে বসতে চান। দলের ব্যর্থতার কারণ পর্যালোচনা এবং লক্ষ্মীর ব্যক্তিগত ইচ্ছার কথা শোনার পরেই আগামী মরশুমের ব্লু-প্রিন্ট তৈরি হবে। তবে আপাতত বাংলা ক্রিকেটে পালাবদলের হাওয়া যে বেশ প্রবল, তা বলাই বাহুল্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *