দেশে বিদ্রোহের সাজা মৃত্যুদণ্ড নাকি যাবজ্জীবন? দক্ষিণ কোরিয়ার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওলের ভাগ্যে বড়সড় বদল

দেশে বিদ্রোহের সাজা মৃত্যুদণ্ড নাকি যাবজ্জীবন? দক্ষিণ কোরিয়ার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওলের ভাগ্যে বড়সড় বদল

সিওল: দক্ষিণ কোরিয়ার ইতিহাসে নজিরবিহীন মোড়। দেশে বিদ্রোহ ও সামরিক আইন জারির দায়ে দোষী সাব্যস্ত হলেন প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওল। বুধবার সিওল সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট তাঁকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছে। প্রসিকিউটররা মৃত্যুদণ্ডের দাবি জানালেও আদালত শেষ পর্যন্ত যাবজ্জীবনের রায় দেয়।

কেন এই চরম সাজা?

২০২৪ সালের ৩ ডিসেম্বর রাতে আচমকা দেশে সামরিক আইন বা ‘মার্শাল ল’ জারি করেছিলেন ইওল। তাঁর অভিযোগ ছিল, বিরোধী সাংসদরা রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। তবে এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে ওঠে গোটা দেশ। জাতীয় পরিষদে সেনা পাঠিয়ে বাধা দেওয়ার অভিযোগও ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। প্রবল জনরোষের মুখে মাত্র ৬ ঘণ্টার মাথায় সেই আইন প্রত্যাহার করতে বাধ্য হন তিনি।

যেভাবে পতন হলো প্রেসিডেন্টের

  • ডিসেম্বর ২০২৪: সামরিক আইন জারির জেরে জাতীয় পরিষদে ১৯০ জন সাংসদ একযোগে সেই সিদ্ধান্ত খারিজ করেন।
  • ১৪ ডিসেম্বর ২০২৪: ২০৪ ভোটে ইমপিচমেন্টের মাধ্যমে ক্ষমতা থেকে সাময়িকভাবে সরানো হয় তাঁকে।
  • এপ্রিল ২০২৫: সাংবিধানিক আদালত অভিশংসন বহাল রেখে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদচ্যুত করে।
  • জুলাই ২০২৫: গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে জেলেই ছিলেন প্রাক্তন এই রাষ্ট্রপ্রধান।

আদালতের পর্যবেক্ষণ

দক্ষিণ কোরিয়ার ফৌজদারি আইনের ৮৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বিদ্রোহে নেতৃত্ব দেওয়ার অপরাধে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। আদালতের মতে, ইওলের পদক্ষেপ দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো ও জাতীয় পরিষদকে সরাসরি আঘাত করেছে। এর আগে জানুয়ারি মাসে নথিপত্র জালিয়াতি ও মন্ত্রিসভার অনুমোদন এড়ানোর দায়ে তাঁকে পাঁচ বছরের জেল দেওয়া হয়েছিল। ১৯৯৭ সাল থেকে দেশে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত যাবজ্জীবনের পথেই হাঁটল আদালত।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *