কাজ পাচ্ছিলেন না সুরের জাদুকর জিৎ গাঙ্গুলি! চরম ডিপ্রেশনের সেই দিনগুলো নিয়ে মুখ খুললেন সঙ্গীত পরিচালক

বাংলা বাণিজ্যিক সিনেমার ভোল বদলে দেওয়া সেই চেনা সুরের কারিগর কি আজ ব্রাত্য? নব্বইয়ের দশকের শেষ থেকে শুরু করে দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে বাঙালির মনে রোমান্টিকতার ছোঁয়া দেওয়া জিৎ গাঙ্গুলির গলায় এখন আক্ষেপের সুর। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের জীবনের সবথেকে অন্ধকার অধ্যায়টি নিয়ে অকপট স্বীকারোক্তি দিয়েছেন এই জনপ্রিয় সঙ্গীত পরিচালক।
সাফল্যের শীর্ষে থেকে হঠাৎ থমকে যাওয়া সফর
জিৎ গাঙ্গুলি মানেই ছিল সুপারহিট গানের গ্যারান্টি। ‘সাথি’ থেকে শুরু করে ‘প্রেম আমার’— তাঁর সুরের জাদুতে বুঁদ হয়ে থাকত গোটা বাংলা। অথচ এই সাফল্যের উজ্জ্বল আলোর নিচেই যে কতটা অন্ধকার জমা হয়েছিল, তা হয়তো কারোর জানা ছিল না। জিৎ জানিয়েছেন, একটা সময় তাঁর হাতে কোনো কাজ ছিল না। যে মানুষটি দিনরাত স্টুডিওতে নতুন সুর নিয়ে পড়ে থাকতেন, তাঁর কাছে নতুন কোনো অফার আসছিল না।
ডিপ্রেশন এবং ভক্তদের প্রশ্নের মুখে শিল্পীর অসহায়তা
কাজের অভাব জিৎ গাঙ্গুলিকে চরম মানসিক অবসাদ বা ডিপ্রেশনের দিকে ঠেলে দিয়েছিল। শিল্পী হিসেবে তিনি সবসময় সৃজনশীল কাজের মধ্যে থাকতে চেয়েছেন, কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি ছিল ঠিক উল্টো। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, সেই সময়টা ছিল ভীষণ যন্ত্রণাদায়ক। রাস্তাঘাটে বা সোশ্যাল মিডিয়ায় যখন ভক্তরা প্রশ্ন করতেন, “আপনার নতুন গান কবে আসবে?” বা “কেন আপনাকে আর পাওয়া যাচ্ছে না?”— তখন উত্তর দেওয়ার মতো ভাষা খুঁজে পেতেন না তিনি।
ইন্ডাস্ট্রির রূঢ় বাস্তব নিয়ে অকপট স্বীকারোক্তি
জিৎ গাঙ্গুলির মতে, একজন সঙ্গীত পরিচালক বা গায়ক যতই কাজ করতে প্রস্তুত থাকুন না কেন, প্রযোজক বা পরিচালকরা যদি সুযোগ না দেন, তবে তাঁর পক্ষে নিজে থেকে কাজ জোগাড় করা সম্ভব নয়। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, প্রতিভা থাকলেও বিনোদন জগতে সুযোগ পাওয়াটা সবসময় ভাগ্যের ওপর নির্ভর করে না, বরং ইন্ডাস্ট্রির সমীকরণের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে।
তবুও হাল ছাড়তে নারাজ সুরের জাদুকর
এতটা মানসিক লড়াই এবং ডিপ্রেশনের মধ্য দিয়ে গেলেও জিতের কণ্ঠে কিন্তু হার মানার সুর নেই। বরং তিনি নতুন করে কাজ করার প্রবল ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তিনি আজও চান নতুন নতুন সুর সৃষ্টি করতে এবং তাঁর প্রিয় শ্রোতাদের উপহার দিতে সেই পুরনো মেলোডির জাদু। এই স্বীকারোক্তি যেমন একজন শিল্পীর একাকিত্বের কথা বলে, তেমনই বিনোদন দুনিয়ার পেছনের কঠিন লড়াইটাকেও সাধারণ মানুষের সামনে নিয়ে আসে।