বেলডাঙাকাণ্ডে ধুন্ধুমার কাণ্ড! এবার এসকর্ট দিতে নারাজ রাজ্য পুলিশই

মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা মামলায় এবার এক নজিরবিহীন সংঘাতের সাক্ষী হতে চলেছে রাজ্য ও কেন্দ্র। এনআইএ-র বিস্ফোরক অভিযোগ, ধৃত অভিযুক্তদের আদালতে পেশ করার জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা বা ‘এসকর্ট’ দিচ্ছে না পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ। বারবার বাধা পাওয়ার পর আর পুলিশের ওপর ভরসা না রেখে এবার নিজেরাই অভিযুক্তদের পাকড়াও করে কলকাতায় নিয়ে আসার জন্য আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা।
পুলিশের সাফাই বনাম এনআইএ-র ক্ষোভ
রাজ্য পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমানে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা চলায় জেলাজুড়ে ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। তাই বাড়তি এসকর্ট দেওয়া সম্ভব নয়। গত ১২ ফেব্রুয়ারি একটি ‘রেডিওগ্রাম’-এর মাধ্যমে মুর্শিদাবাদ জেলা পুলিশ তাদের এই অপারগতার কথা জানায়। কিন্তু এনআইএ-র দাবি, এটি স্রেফ অসহযোগিতার একটি অজুহাত। এর আগেও দু’বার ধৃতদের আদালতে সশরীরে হাজির করা সম্ভব হয়নি, যার ফলে তদন্তের গতি শ্লথ হয়ে পড়ছে। গত শুনানিতে ভার্চুয়ালি পেশ করা হলেও, জেরা এবং তদন্তের খাতিরে তাদের সশরীরে উপস্থিতি জরুরি বলে মনে করছেন গোয়েন্দারা।
কেন উত্তাল হয়েছিল বেলডাঙা
চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের শুরুতে এক শ্রমিকের রহস্যমৃত্যুকে কেন্দ্র করে অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে মুর্শিদাবাদ। অভিযোগ ওঠে, ওই শ্রমিককে খুন করে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেই ঘটনার প্রতিবাদে শিয়ালদহ-লালগোলা শাখার রেললাইন অবরোধ থেকে শুরু করে পুলিশের ওপর হামলা— পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে গিয়েছিল। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে তদন্তভার গ্রহণ করে এনআইএ।
আদালতের অনুমতির অপেক্ষায় কেন্দ্রীয় সংস্থা
পুলিশি নিষ্ক্রিয়তা এবং অসহযোগিতার অভিযোগে কার্যত বিরক্ত কেন্দ্রীয় তদন্তকারীরা। তাদের স্পষ্ট দাবি, অভিযুক্তদের আদালতে আনতে না পারায় বিচারপ্রক্রিয়া থমকে যাচ্ছে। এখন দেখার, আদালত এনআইএ-কে নিজেদের তত্ত্বাবধানে অভিযুক্তদের স্থানান্তরের অনুমতি দেয় কি না। যদি অনুমতি মেলে, তবে তা রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর এক বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া করবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।