টিকিট না পেলেও অন্য কোথাও যাবেন না, বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েই বড় বার্তা বিষ্ণুপ্রসাদ শর্মার

কলকাতা: লোকসভা নির্বাচনের আগে পাহাড়ের রাজনীতিতে বড়সড় ধামাকা। জল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ঘাসফুল শিবিরে নাম লেখালেন কার্শিয়াংয়ের প্রভাবশালী বিধায়ক বিষ্ণুপ্রসাদ শর্মা। যোগদানের পরেই বিস্ফোরক মেজাজে দেখা গেল তাঁকে। স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ বা টিকিটের লোভে তিনি দলবদল করেননি।
কোনো শর্ত ছাড়াই তৃণমূলে বিষ্ণুপ্রসাদ
তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিষ্ণুপ্রসাদ শর্মা বলেন, “আমি টিকিটের জন্য তৃণমূলে আসিনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নের কর্মযজ্ঞে সামিল হতে চাই। দল যদি আমায় টিকিট নাও দেয়, তবুও আমি অন্য কোথাও যাব না। তৃণমূলের একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবেই পাহাড়ের মানুষের জন্য কাজ করে যাব।” তাঁর এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে, কারণ দীর্ঘদিন ধরেই গেরুয়া শিবিরের অভ্যন্তরে তাঁর ক্ষোভ প্রকাশ পাচ্ছিল।
বিশ্বাসঘাতক তকমা দিয়ে আক্রমণ বিজেপির
অন্যদিকে, বিষ্ণুপ্রসাদ শর্মার দলবদলকে বিন্দুমাত্র গুরুত্ব দিতে নারাজ বিজেপি নেতৃত্ব। রাজ্য বিজেপির প্রবীণ নেতা রাহুল সিনহা এই যোগদান প্রসঙ্গে তীব্র কটাক্ষ ছুড়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, “বিষ্ণুপ্রসাদ শর্মা গত কয়েক বছর ধরেই দলের বিরোধী এবং বিতর্কিত মন্তব্য করে আসছিলেন। তিনি পাহাড়ের মানুষের রায়ের সঙ্গে এবং বিশ্বাসের সঙ্গে বড় বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। আর এই ধরনের বিশ্বাসঘাতকদের আসল জায়গাই হলো তৃণমূল কংগ্রেস।”
পাহাড়ের সমীকরণে পরিবর্তনের ইঙ্গিত
বিষ্ণুপ্রসাদ শর্মার মতো পাহাড়ের দাপুটে নেতার দলত্যাগে উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক সমীকরণ যে বেশ কিছুটা বদলে যাবে, তা বলাই বাহুল্য। একদিকে বিজেপি যখন একে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ বলে দাগিয়ে দিচ্ছে, অন্যদিকে তৃণমূল একে পাহাড়ের মানুষের উন্নয়নের জয় হিসেবে দেখছে। এখন দেখার, পাহাড়ের রাজনীতিতে এই ভাঙন আগামী নির্বাচনে বিজেপিকে কতটা বিপাকে ফেলে।