মাঝমাথার টাক নিয়ে চিন্তিত? ম্যাজিকের মতো চুল গজাবে ডায়েটে এই ৫ ভিটামিন থাকলে

চুল পড়া বর্তমান সময়ে এক বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দূষণ, মানসিক চাপ আর অনিয়মিত জীবনযাপনের ফলে অকালেই ঝরছে চুল। বাজারচলতি দামি শ্যাম্পু বা তেল ব্যবহার করেও অনেক সময় আশানুরূপ ফল মেলে না। আসলে চুলের গোড়া মজবুত করতে বাহ্যিক যত্নের চেয়েও বেশি প্রয়োজন সঠিক পুষ্টি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খাদতালিকায় নির্দিষ্ট কিছু ভিটামিন রাখলে মাত্র কয়েক সপ্তাহেই চুলের ভোল বদলে ফেলা সম্ভব।
চুলের পুনর্জন্মে যে ৫ ভিটামিন অপরিহার্য
১. বায়োটিন বা ভিটামিন বি-৭
চুলের মূল গঠন তৈরি হয় কেরাটিন নামক প্রোটিন দিয়ে। আর এই প্রোটিন উৎপাদনে প্রধান অনুঘটক হিসেবে কাজ করে বায়োটিন। এটি চুলের ইলাস্টিসিটি বাড়ায়, ফলে চুল মাঝপথে ভেঙে যায় না। ডিমের কুসুম, বাদাম এবং দানাশস্য বায়োটিনের চমৎকার উৎস।
২. ভিটামিন ডি
নতুন হেয়ার ফলিকল বা চুলের গোড়া তৈরি করতে ভিটামিন ডি-র বিকল্প নেই। শরীরে এই ভিটামিনের অভাব ঘটলে চুল পাতলা হতে শুরু করে এবং নতুন চুল গজানো বন্ধ হয়ে যায়। ভোরের সূর্যালোক ছাড়াও ফ্যাটি ফিশ বা মাশরুম থেকে এই পুষ্টি পাওয়া যায়।
৩. ভিটামিন ই
এটি একটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা স্ক্যাল্পের অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমায়। মাথার ত্বকে রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে এটি চুলের দ্রুত বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। আমন্ড, পালং শাক এবং সূর্যমুখীর বীজ ভিটামিন ই-র ভাণ্ডার।
৪. ভিটামিন সি
শরীরে কোলাজেন প্রোটিন তৈরিতে ভিটামিন সি অপরিহার্য। এটি চুলের গঠনকে ভেতর থেকে শক্তিশালী করে। এছাড়া আয়রন শোষণে সাহায্য করে এই ভিটামিনটি পরোক্ষভাবে চুল পড়া রোধ করে। লেবু, আমলকী বা পেয়ারা নিয়মিত খেলে চুলের জেল্লা ফিরে আসে।
৫. ভিটামিন এ
মাথার ত্বক বা স্ক্যাল্পকে আর্দ্র রাখতে সাহায্য করে ভিটামিন এ। এটি সিবাম নামক প্রাকৃতিক তেল নিঃসরণে ভূমিকা রাখে, যা চুলকে কন্ডিশনিং করে। তবে মনে রাখবেন, ভিটামিন এ অতিরিক্ত গ্রহণ করলে উল্টো ফল হতে পারে, তাই গাজর বা মিষ্টি আলুর মতো প্রাকৃতিক উৎস থেকেই এটি গ্রহণ করা শ্রেয়।
চুলের স্বাস্থ্য বজায় রাখতে আজই আপনার রোজকার খাবারে এই পুষ্টি উপাদানগুলো যোগ করুন। সঠিক ডায়েট আর পর্যাপ্ত জল পানের মাধ্যমেই আপনি পেতে পারেন ঘন, লম্বা এবং উজ্জ্বল চুল।