গরু আনতে গিয়ে ভয়াবহ অভিজ্ঞতার শিকার গৃহবধূ, প্রতিবেশী যুবকের লালসার জেরে রণক্ষেত্র জলপাইগুড়ি

উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়িতে সাতসকালে এক শিউরে ওঠা অপরাধের খবর সামনে এসেছে। প্রতিদিনের মতো তিস্তা নদীর চরে নিজের গরু আনতে গিয়েছিলেন এক গৃহবধূ। অভিযোগ, সেই নির্জনতার সুযোগ নিয়েই প্রতিবেশী এক যুবক তাঁর ওপর অতর্কিতে চড়াও হয় এবং তাঁকে ধর্ষণ করে। জলপাইগুড়ি সদর ব্লকের বোয়ালমারি নন্দনপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার প্রধান পাড়া গ্রামে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ছড়িয়েছে।
ঘটনার বিবরণ ও পুলিশি তৎপরতা
নির্যাতিতার পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পর কোনোমতে বাড়ি ফিরে তিনি পরিবারের সদস্যদের কাছে নিজের ওপর হওয়া অত্যাচারের কথা জানান। মুহূর্তের মধ্যে এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন গ্রামবাসীরা। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় কোতোয়ালি থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। নির্যাতিতার পরিবারের পক্ষ থেকে রাতেই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তবে ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত যুবক এলাকা ছেড়ে আত্মগোপন করেছে। পুলিশ তাকে খুঁজে না পেলেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অভিযুক্তের মাকে আটক করে থানায় নিয়ে এসেছে।
আতঙ্কে গ্রামবাসীরা, উঠছে শাস্তির দাবি
এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় সারা গ্রামে এখন আতঙ্কের ছায়া। নির্যাতিতার স্বামী কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “ও শুধু গরু আনতে চরে গিয়েছিল, আর সেখানেই প্রতিবেশী যুবক ওর ওপর এই পাশবিক অত্যাচার চালাল। আমরা দোষীর কঠোরতম শাস্তি চাই।” স্থানীয় বাসিন্দা প্রসেনজিৎ লালা জানিয়েছেন, গ্রামের ভেতর এমন ঘটনায় মহিলারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। পুলিশ যাতে দ্রুত মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক সাজা দেয়, সেই দাবিতে সরব হয়েছেন সকলে। আপাতত নির্যাতিতার ডাক্তারি পরীক্ষার প্রক্রিয়া চলছে এবং এলাকায় নতুন করে অশান্তি এড়াতে পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
উত্তরবঙ্গে নারী নিরাপত্তা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ
উল্লেখ্য, গত কয়েকদিন আগেই কোচবিহারের মেখলিগঞ্জে এক নাবালিকাকে জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে যৌন হেনস্থার অভিযোগ উঠেছিল। সেই ঘটনায় প্রতিবাদীদের গ্রেফতার করা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাপানউতোর তৈরি হয়েছিল। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার জলপাইগুড়িতে গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগ নতুন করে আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিল। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, দিনের আলোয় যদি নারীরা সুরক্ষিত না থাকেন, তবে প্রশাসন কী পদক্ষেপ করছে?