সতর্ক না হলেই সর্বনাশ! হোয়াটসঅ্যাপে আসা একটি ছবিতেই খালি হতে পারে আপনার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট

বর্তমান ডিজিটাল যুগে হোয়াটসঅ্যাপ আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু এই জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপই এখন সাইবার অপরাধীদের প্রধান হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি এক চাঞ্চল্যকর তথ্যে জানা গেছে, আপনার ফোনে আসা একটি সাধারণ ছবি বা ভিডিও-র আড়ালে লুকিয়ে থাকতে পারে ভয়ঙ্কর ম্যালওয়্যার বা ভাইরাস। বিশেষ করে অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোন ব্যবহারকারীরা এখন হ্যাকারদের প্রধান নিশানায় রয়েছেন।
কীভাবে কাজ করছে এই জালিয়াতি চক্র?
হ্যাকাররা মূলত অজানা নম্বর থেকে বা বিভিন্ন প্রলোভন দেখানো গ্রুপে উচ্চমানের ছবি ও চিত্তাকর্ষক ভিডিও পাঠাচ্ছে। আপনি যখনই সেই মিডিয়া ফাইলটি ডাউনলোড করছেন, তখনই অজান্তে আপনার ফোনে প্রবেশ করছে একটি ক্ষতিকারক ভাইরাস। এই ভাইরাসটি ফোনের সিস্টেমের গভীরে জাঁকিয়ে বসে এবং ব্যবহারকারীর অজান্তেই ব্যক্তিগত তথ্য চুরি করতে শুরু করে। আপনার গ্যালারির ছবি, কন্টাক্ট লিস্ট থেকে শুরু করে ব্যাঙ্কিং পাসওয়ার্ড পর্যন্ত সবকিছুই চলে যাচ্ছে হ্যাকারদের নিয়ন্ত্রণে।
অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের কেন বেশি ভয়?
বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমের ওপেন সোর্স বৈশিষ্ট্যের সুযোগ নিয়ে হ্যাকাররা সহজেই এর নিরাপত্তা বলয় ভেঙে ফেলছে। একবার ভাইরাসটি ফোনে সক্রিয় হয়ে গেলে এটি আপনার কি-বোর্ড অ্যাক্টিভিটি ট্র্যাক করতে পারে, যাকে প্রযুক্তিগত ভাষায় ‘কি-লগার’ বলা হয়। এর ফলে আপনি ফোনে যা টাইপ করছেন, তার প্রতিটি অক্ষর সরাসরি হ্যাকারের সার্ভারে পৌঁছে যাচ্ছে।
সুরক্ষিত থাকতে যে পদক্ষেপগুলি নেওয়া জরুরি
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য কিছু বিশেষ নির্দেশিকা জারি করেছেন:
- অটো-ডাউনলোড বন্ধ রাখুন: হোয়াটসঅ্যাপের সেটিংস থেকে ‘মিডিয়া অটো-ডাউনলোড’ অপশনটি এখনই বন্ধ করুন। এতে আপনার অনুমতি ছাড়া কোনো ফাইল ফোনে সেভ হবে না।
- অচেনা সোর্স এড়িয়ে চলুন: অজানা নম্বর থেকে আসা কোনো লিঙ্ক, ছবি বা ভিডিওতে ক্লিক করবেন না। বিশেষ করে লটারি বা উপহারের লোভ দেখানো মেসেজ থেকে দূরে থাকুন।
- সন্দেহজনক গ্রুপ ত্যাগ করুন: আপনাকে যদি কেউ আপনার অজান্তেই কোনো গ্রুপে অ্যাড করে এবং সেখানে নিয়মিত অজানা ফাইল পাঠানো হয়, তবে অবিলম্বে সেই গ্রুপ থেকে বেরিয়ে যান এবং রিপোর্ট করুন।
- অ্যান্টি-ভাইরাস ব্যবহার: ফোনের সুরক্ষা বজায় রাখতে একটি বিশ্বস্ত এবং আপডেট করা অ্যান্টি-ভাইরাস বা মোবাইল সিকিউরিটি অ্যাপ ব্যবহার করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
প্রযুক্তির সুবিধা নিতে গিয়ে অসাবধানতায় নিজের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও কষ্টের উপার্জিত অর্থ ঝুঁকির মুখে ফেলবেন না। মনে রাখবেন, আপনার একটু সতর্কতা এবং সচেতনতাই পারে এই ডিজিটাল দস্যুদের হাত থেকে আপনাকে রক্ষা করতে।