দুঃসংবাদ! ফুটবল খেলতে গিয়ে মাঠেই আকস্মিক মৃত্যু শিলংয়ের সাংসদ রিকি সিংকনের

শিলংয়ের রাজনৈতিক আকাশে শোকের কালো মেঘ। ফুটবল খেলতে গিয়ে মাঠেই আকস্মিক মৃত্যু হল মেঘালয়ের তরুণ এবং অত্যন্ত জনপ্রিয় সাংসদ রিকি এ জে সিংকনের। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শিলংয়ের অদূরে মাওলাই মাওইয়ং এলাকায় বন্ধুদের সঙ্গে প্রীতি ম্যাচ খেলছিলেন তিনি। কিন্তু খেলার মাঝপথেই হঠাৎ অসুস্থ বোধ করে লুটিয়ে পড়েন এই অধ্যাপক-রাজনীতিবিদ। মাঠের মধ্যেই এমন মর্মান্তিক ঘটনায় স্তম্ভিত গোটা রাজ্য।
রেফার রোগ এবং চিকিৎসার গাফিলতির অভিযোগ
সাংসদের মৃত্যুর পর তাঁর বন্ধুরা ও অনুগামীরা স্থানীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থার কঙ্কালসার দশা নিয়ে সরব হয়েছেন। অভিযোগ উঠেছে, অসুস্থ হওয়ার পর তাঁকে দ্রুত মাওইয়ং কমিউনিটি হেলথ সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হলেও সেখানে কোনো চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন না। পরিকাঠামোর অভাবে তাঁকে সেখান থেকে রেফার করে দেওয়া হয়। এরপর তাঁকে শিলংয়ের ড. এইচ গর্ডন রবার্টস হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। বন্ধুদের দাবি, হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর ন্যূনতম প্রাথমিক চিকিৎসা বা জীবনদায়ী কোনো পদক্ষেপ করা হয়নি। রাত ৮টা ৪২ মিনিটে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে জানিয়ে দেন।
নেপথ্যে কি কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট
সাংসদ রিকি সিংকনের মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনও সরকারিভাবে স্পষ্ট নয়। তবে প্রাথমিক চিকিৎসকদের অনুমান, ফুটবল খেলার ধকল সইতে না পেরে তিনি কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের শিকার হতে পারেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের ক্ষেত্রে প্রথম কয়েক মিনিট বা ‘গোল্ডেন আওয়ার’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক সময়ে চিকিৎসা শুরু হলে প্রাণ বাঁচানোর সম্ভাবনা থাকে, যা সিংকনের ক্ষেত্রে সম্ভব হয়নি বলে মনে করা হচ্ছে।
এক নজরে রিকি সিংকনের রাজনৈতিক উত্থান
- বিশাল জয়: ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে মেঘালয়ের রাজনীতিতে এক প্রকার বিস্ময় সৃষ্টি করেছিলেন তিনি।
- পরাজিত হেভিওয়েট: তিনবারের প্রভাবশালী কংগ্রেস সাংসদ ভিনসেন্ট এইচ পালাকে প্রায় ৩.৭ লক্ষ ভোটের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে জীবনের প্রথম নির্বাচনেই বাজিমাত করেন এই প্রাক্তন অধ্যাপক।
- পরিচয়: রাজনীতির আঙিনায় তিনি অত্যন্ত বিনয়ী, নিষ্ঠাবান এবং সমাজ সংস্কারক হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
শোকস্তব্ধ মেঘালয়ের রাজনৈতিক মহল
সাংসদের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই হাসপাতালে ভিড় জমান রাজ্যের শীর্ষ নেতৃত্ব। মেঘালয়ের উপ-মুখ্যমন্ত্রী প্রেস্টন টিনসাং এবং ভিপিপি সভাপতি আর্দেন্ট মিলার বাসাইওমইত সহ একাধিক বিধায়ক সেখানে উপস্থিত হন। মুখ্যমন্ত্রী কনরাড সাংমা গভীর শোক প্রকাশ করে জানিয়েছেন, ড. রিকি ছিলেন এক স্বপ্নদ্রষ্টা নেতা, যাঁর অকাল প্রয়াণে রাজ্যে এক অপূরণীয় শূন্যতা তৈরি হল। একজন তরুণ সাংসদের এভাবে মাঠের মধ্যে চলে যাওয়া কেবল মেঘালয় নয়, সমগ্র উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজনীতির জন্য এক বড় ধাক্কা।