পশ্চিম এশিয়ার আকাশে কি যুদ্ধের দামামা? ৫০টি মার্কিন যুদ্ধবিমান মোতায়েন

পশ্চিম এশিয়ার আকাশে কি যুদ্ধের দামামা? ৫০টি মার্কিন যুদ্ধবিমান মোতায়েন

পশ্চিম এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক মানচিত্রে ঘনিয়ে আসছে এক অস্থির যুদ্ধের কালো মেঘ। একদিকে যখন পরমাণু চুক্তি নিয়ে ইরান এবং আমেরিকার শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে জেনিভায় হাই-ভোল্টেজ বৈঠক চলছে, ঠিক তখনই সমর-সজ্জার এক চরম নজির স্থাপন করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জানা গিয়েছে, উত্তপ্ত এই অঞ্চলে আচমকাই ৫০টি অত্যাধুনিক মার্কিন যুদ্ধবিমান পাঠিয়েছে ওয়াশিংটন, যা গোটা বিশ্বের প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।

কূটনীতি বনাম রণকৌশল

জেনিভার রুদ্ধদ্বার বৈঠক থেকে দু’দেশের অবস্থান নিয়ে মিশ্র সংকেত পাওয়া যাচ্ছে। ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, তেহরান এবং ওয়াশিংটন একটি ‘সাধারণ সমঝোতায়’ পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, আলোচনার মাধ্যমে বরফ গলতে শুরু করেছে এবং পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

তবে মুদ্রার উল্টো পিঠ দেখাচ্ছে মার্কিন প্রশাসন। হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তাদের দাবি, পরিস্থিতি যতটা সহজ মনে হচ্ছে আদতে তা নয়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দেওয়া বেশ কিছু কঠোর শর্ত মেনে নিতে সরাসরি নারাজ আয়তুল্লাহ খামেনেইয়ের দেশ। তেহরানের এই অনড় মনোভাবের কারণেই কি আলোচনার টেবিলে বসেও আকাশে যুদ্ধবিমান ওড়ালেন ট্রাম্প? এই প্রশ্নই এখন আন্তর্জাতিক মহলে ঘুরপাক খাচ্ছে।

রণসজ্জার নেপথ্যে আসল কারণ কী

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ৫০টি যুদ্ধবিমান মোতায়েন আসলে ইরানের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করার এক সুপরিকল্পিত কৌশল। আলোচনার টেবিলে নিজেদের পাল্লা ভারী রাখতেই ট্রাম্প প্রশাসন এই কড়া বার্তা পাঠাল বলে মনে করা হচ্ছে। একদিকে শান্তির প্রস্তাব এবং অন্যদিকে আকাশজুড়ে যুদ্ধের প্রস্তুতি— আমেরিকার এই দ্বিমুখী নীতি পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

এখন দেখার বিষয়, জেনিভার এই বৈঠক শেষ পর্যন্ত কোনো স্থায়ী সমাধানের পথে হাঁটে নাকি এই যুদ্ধবিমানগুলোর গর্জন বড় কোনো সংঘাতের ইঙ্গিত দেয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *