ট্রাম্পের বোর্ড অফ পিস কি রাষ্ট্রসংঘকে টক্কর দেবে, সদস্য না হয়েও কেন প্রথম বৈঠকে ভারত

গাজা সংকট নিরসনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উচ্চাভিলাষী উদ্যোগ ‘বোর্ড অফ পিস’-এর প্রথম বৈঠক ঘিরে বিশ্ব রাজনীতিতে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত এই হাই-প্রোফাইল বৈঠকে ভারত উপস্থিত থাকলেও, একটি বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছে নয়াদিল্লি। ভারত এই বোর্ডের আনুষ্ঠানিক সদস্যপদ গ্রহণ না করে আপাতত ‘পর্যবেক্ষক’ বা অবজার্ভার হিসেবেই শান্তিবাহিনীর এই টেবিলে বসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
নামগ্যা খাম্পার উপস্থিতি এবং ভারতের অবস্থান
ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত ‘ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প ইনস্টিটিউট অফ পিস’-এ আয়োজিত এই গুরুত্বপূর্ণ সভায় ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেন দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স নামগ্যা খাম্পা। গত মাসে দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে ট্রাম্প যখন এই বোর্ড গঠনের কথা ঘোষণা করেছিলেন, তখন থেকেই জল্পনা ছিল ভারত এতে যোগ দেবে কি না। ১২ ফেব্রুয়ারি বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছিল যে, বিষয়টি এখনও বিবেচনাধীন। বৃহস্পতিবারের বৈঠকে খাম্পার উপস্থিতি স্পষ্ট করে দিল যে, ভারত এখনই পূর্ণ সদস্য না হলেও এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত থাকতে আগ্রহী।
রাষ্ট্রসংঘকে চ্যালেঞ্জ জানানোর ইঙ্গিত
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সাথে দাবি করেছেন যে, বিশ্বের প্রায় সব দেশই এই সংস্থার অংশ হতে চাইছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে সরাসরি রাষ্ট্রসংঘের বিকল্প শক্তি হিসেবে দাঁড়িয়ে যেতে পারে। ওয়াশিংটনের ইউএস ইনস্টিটিউট অফ পিস-এ আয়োজিত এই প্রথম সভায় প্রায় ৫০টি দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এর মধ্যে ২৭টি দেশ সরাসরি সদস্য হিসেবে যোগ দিয়েছে। সদস্য দেশগুলোর তালিকায় রয়েছে ইসরায়েল, পাকিস্তান, সৌদি আরব, তুরস্ক, ইউএই এবং মিশরের মতো দেশগুলো। অন্যদিকে ভারতের পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নও পর্যবেক্ষক হিসেবেই বৈঠকে যোগ দেয়।
বিশাল অঙ্কের ত্রাণ প্যাকেজ ঘোষণা
বৈঠকের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল গাজার জন্য বিশাল অংকের আর্থিক সহায়তার ঘোষণা। ট্রাম্প জানিয়েছেন, কাজাখস্তান, আজারবাইজান, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, কাতার এবং সৌদি আরব সহ মোট ৯টি দেশ গাজার ত্রাণ প্যাকেজের জন্য ৭ বিলিয়ন ডলার দিতে সম্মত হয়েছে। ট্রাম্প নিজে এই শান্তি বোর্ডের জন্য ১০ বিলিয়ন ডলার দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন, যদিও এই বিপুল পরিমাণ অর্থ ঠিক কোন কোন খাতে ব্যয় করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
ভারতের সাবধানী চাল
বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল আগেই জানিয়েছিলেন যে, পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠার যে কোনও উদ্যোগকে ভারত নীতিগতভাবে সমর্থন করে। প্রধানমন্ত্রী মোদী নিজেও গাজা সহ সমগ্র অঞ্চলে স্থায়ী শান্তির পক্ষে সওয়াল করেছেন। তবে ট্রাম্পের এই নতুন বোর্ডে পূর্ণ সদস্যপদ গ্রহণ করার আগে ভারত সম্ভবত এর গতিপ্রকৃতি এবং আন্তর্জাতিক প্রভাব আরও খতিয়ে দেখতে চায়। পর্যবেক্ষক হিসেবে থাকা মানেই হলো, ভারত আলোচনার ভেতরে থেকেও নিজের কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন বজায় রাখতে সক্ষম হবে।