তারেক রহমান ক্ষমতায় আসতেই ভোলবদল? শীঘ্রই বাংলাদেশিদের জন্য সব ধরণের ভিসা চালু করছে ভারত

বাংলাদেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অবশেষে কাটতে চলেছে ভিসা জটিলতা। বিএনপি নেতা তারেক রহমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করার পরপরই দিল্লির পক্ষ থেকে ইতিবাচক সংকেত পাওয়া যাচ্ছে। ভারতীয় হাইকমিশন সূত্রে খবর, খুব দ্রুতই পর্যটন বা ট্রাভেল ভিসাসহ সব ধরণের ভিসা পরিষেবা পুরোদমে চালু করতে চলেছে ভারত।
সম্পর্কের বরফ কি তবে গলছে
গত জুলাইয়ে ছাত্র আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করে ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর থেকেই দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্কে টানাপড়েন শুরু হয়েছিল। ছাত্রনেতা শরিফ উসমান হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ভারত-বিরোধী বিক্ষোভের জেরে নিরাপত্তাজনিত কারণে ভারতীয় ভিসা কেন্দ্রগুলি তাদের কার্যক্রম সীমিত করে দিয়েছিল। বর্তমানে শুধুমাত্র মেডিকেল ও ডাবল-এন্ট্রি ভিসা প্রদান করা হচ্ছে। তবে সিলেটে নিযুক্ত ভারতের সিনিয়র কনস্যুলার অফিসার অনিরুদ্ধ দাস জানিয়েছেন, সাধারণ পর্যটন ভিসাও যাতে দ্রুত চালু করা যায়, সেই প্রক্রিয়া এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে।
প্রধানমন্ত্রী মোদীর পক্ষ থেকে তারেক রহমানকে বিশেষ আমন্ত্রণ
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ইতিপূর্বেই বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সপরিবারে ভারত সফরের জন্য আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। এক চিঠিতে মোদী উল্লেখ করেছেন যে, ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক পারস্পরিক শ্রদ্ধা, অভিন্ন ইতিহাস এবং সংস্কৃতির ওপর ভিত্তি করে দাঁড়িয়ে আছে। দুই দেশের উন্নয়নমূলক লক্ষ্য এবং জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণে তারেক রহমানের সরকারের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে ভারত উৎসুক।
সুসম্পর্কের নতুন বার্তা
সিলেট জেলা প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ভারতীয় কূটনীতিক অনিরুদ্ধ দাস স্পষ্ট করেছেন যে, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের মূল অংশীদার হলো দুই দেশের সাধারণ মানুষ। একটি স্থিতিশীল, ইতিবাচক এবং দীর্ঘমেয়াদী বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে দুই দেশই সমমনোভাবাপন্ন। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন যে, ভিসা প্রদানের জটিলতা কাটিয়ে উঠে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও মজবুত করতে ভারত সব ধরণের সহযোগিতা প্রদান করবে।
শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর যে শীতলতা তৈরি হয়েছিল, তারেক রহমানের ক্ষমতা গ্রহণের মাধ্যমে এবং ভারতের এই কূটনৈতিক তৎপরতায় দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, পর্যটন ভিসা চালু হলে দুই দেশের যাতায়াত ও বাণিজ্য আবার আগের ছন্দে ফিরবে।