মাঝ আকাশে আমেরিকার বি-৫২ বোমারু বিমান নিয়ে চরম সংঘাত

ইরানের ওপর সম্ভাব্য মার্কিন হামলা ঘিরে এবার সরাসরি সংঘাতের পথে হাঁটছে ওয়াশিংটন ও লন্ডন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন তেহরানের ওপর বড়সড় সামরিক আঘাত হানার ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করছেন, ঠিক তখনই ব্রিটিশ মাটি ব্যবহারে লালবাতি জ্বালিয়ে দিল কিয়ার স্টারমারের সরকার। গ্লচেস্টারশায়ারের আরএএফ ফেয়ারফোর্ড (RAF Fairford) বেস থেকে আমেরিকার দূরপাল্লার বোমারু বিমান ওড়ানোর অনুমতি দিতে সাফ মানা করে দিয়েছে ব্রিটেন। আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই এখন দুই পশ্চিমা মিত্র দেশের মধ্যে সম্পর্কের পারদ চড়তে শুরু করেছে।
আন্তর্জাতিক আইনের দোহাই দিয়ে ট্রাম্পকে ‘না’ ব্রিটেনের
ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকার এই ‘প্রি-এমপ্টিভ’ বা আগাম হামলাকে সমর্থন করা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হতে পারে। লন্ডনের যুক্তি, কোনো দেশ যদি অন্য কোনো দেশের বেআইনি সামরিক অভিযানে জেনেবুঝেও সাহায্য করে, তবে সেই অপরাধের দায়ভার তাদের ওপরও বর্তায়। ২০০১ সালের পর থেকে ব্রিটেনের বিদেশনীতিতে এই কঠোর আন্তর্জাতিক আইন অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আর সেই আইনি জটিলতা এড়াতেই ট্রাম্পের আর্জি খারিজ করেছে ১০ ডাউনিং স্ট্রিট।
চাগোস দ্বীপপুঞ্জ ও ডিয়েগো গার্সিয়া নিয়ে দড়িটানাটানি
ব্রিটেনের এই সিদ্ধান্তে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ব্রিটেনের এই অবস্থানের তীব্র সমালোচনা করেছেন তিনি। ট্রাম্পের সাফ কথা, একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক ও অস্থিতিশীল সরকারকে (ইরান) রুখতে আমেরিকার জন্য আরএএফ ফেয়ারফোর্ড এবং ডিয়েগো গার্সিয়া বেস ব্যবহার করা অত্যন্ত জরুরি। এরই মধ্যে ভারত মহাসাগরের চাগোস দ্বীপপুঞ্জ মরিশাসকে হস্তান্তরের ব্রিটিশ পরিকল্পনা নিয়েও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি মনে করেন, এই দ্বীপপুঞ্জ হাতছাড়া হলে ওই অঞ্চলে আমেরিকার সামরিক আধিপত্য খর্ব হবে।
যুদ্ধের মেঘ ও দুই দেশের অবস্থান
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে ওয়াশিংটন। ইরানের যেকোনো পদক্ষেপের পাল্টা জবাব দিতে তারা প্রস্তুত। তবে ব্রিটেন এবার আর অন্ধভাবে আমেরিকার যুদ্ধসঙ্গী হতে রাজি নয়। এর আগেও ইরান লক্ষ্য করে আমেরিকার সরাসরি হামলায় অংশ নিতে অস্বীকার করেছিল ব্রিটিশ বাহিনী। তারা কেবল নিজেদের সম্পদ এবং আঞ্চলিক মিত্রদের আত্মরক্ষামূলক সহায়তার মধ্যেই নিজেদের সীমাবদ্ধ রেখেছে।
কী হতে চলেছে আগামীর সমীকরণ
চাগোস দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে মরিশাসের সাথে ব্রিটেনের যে ৩৫ বিলিয়ন পাউন্ডের ৯৯ বছরের লিজ চুক্তি হওয়ার কথা রয়েছে, তা নিয়ে এখন বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন ঝুলে গেল। ট্রাম্প প্রশাসন স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, তারা ইন্দো-প্যাসিফিক এবং মধ্যপ্রাচ্য অপারেশনের জন্য ডিয়েগো গার্সিয়া বেসকে কোনোভাবেই হাতছাড়া করতে চায় না। একদিকে আন্তর্জাতিক আইনের বাধ্যবাধকতা, অন্যদিকে আমেরিকার মতো শক্তিশালী বন্ধুর চাপ— সব মিলিয়ে এক চরম কূটনৈতিক সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে ব্রিটেন।