যুদ্ধের ময়দানে পাকিস্তানকে কাঁপাতে ভারতে আসছে আরও ১১৪টি রাফাল, মোদী-ম্যাক্রঁ মেগা চুক্তিতে ঘুম উড়ল শত্রুপক্ষের

ভারত ও ফ্রান্সের বন্ধুত্বের ইতিহাসে এক সোনালি অধ্যায় রচিত হতে চলেছে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রঁ-র মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ক এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে। ভারতের আকাশ ও জলসীমাকে দুর্ভেদ্য করতে ১১৪টি নতুন রাফাল যুদ্ধবিমান এবং তিনটি অত্যাধুনিক স্করপিয়ান সাবমেরিন তৈরির বিষয়ে বড়সড় ঐকমত্যে পৌঁছেছে দুই দেশ।
মেক ইন ইন্ডিয়া প্রকল্পে বড় চমক
ফরাসি প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এই বিশাল চুক্তির মূল ভিত্তি হবে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ নীতি। মোট ১১৪টি রাফাল বিমানের মধ্যে ১৮টি সরাসরি ফ্রান্স থেকে ওড়ার অবস্থায় ভারতে আসবে। বাকি বিমানগুলো ভারতেই তৈরি করা হবে, যেখানে অন্তত ৫০ শতাংশ দেশীয় সরঞ্জাম ব্যবহার করা হবে। এটি ভারতের প্রতিরক্ষা শিল্পে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে এবং হাজার হাজার কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে।
জলসীমান্তে বাড়বে নজরদারি
আকাশপথের পাশাপাশি ভারতের সামুদ্রিক শক্তি বাড়াতেও হাত বাড়িয়েছে ফ্রান্স। মুম্বইয়ের মাঝগাঁও ডক লিমিটেড এবং ফরাসি প্রতিরক্ষা সংস্থা নাভাল গ্রুপের যৌথ উদ্যোগে ভারতে তিনটি নতুন স্করপিয়ান সাবমেরিন বা ডুবোজাহাজ তৈরির পরিকল্পনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এই প্রযুক্তিগত আদান-প্রদান ভারতের নৌবাহিনীকে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে অপ্রতিরোধ্য করে তুলবে।
ম্যাক্রঁ-র ভারত প্রেম ও সমালোচকদের জবাব
এআইই ইমপ্যাক্ট সামিটের ফাঁকে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রঁ আবেগপূর্ণ কণ্ঠে বলেন, “আমি আপনাদের দেশ ভারতকে ভালোবাসি।” ভারতের কিছু মহলে এই প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে সমালোচনার জবাবে তিনি জানান, এই চুক্তি ভারতকে কেবল সামরিকভাবে শক্তিশালী করবে না, বরং নতুন প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের পথে এগিয়ে দেবে। তিনি আরও ঘোষণা করেন যে, আসন্ন জি-৭ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন, যা বিশ্বমঞ্চে ভারতের ক্রমবর্ধমান গুরুত্বকেই প্রমাণ করে।
কেন এই রাফাল চুক্তি এত গুরুত্বপূর্ণ?
গত বছর সীমান্ত সংঘাতের সময় রাফাল যুদ্ধবিমানের তেজ দেখে পিছু হটতে বাধ্য হয়েছিল পাকিস্তান। বর্তমানে ভারতীয় বায়ুসেনার কাছে ৩৬টি এবং নৌসেনার জন্য ২৬টি রাফাল বিমান রয়েছে। নতুন ১১৪টি বিমান যুক্ত হলে ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যূহ এতটাই শক্তিশালী হবে যে, প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর কাছে তা আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়াবে। রক্ষণাবেক্ষণ থেকে শুরু করে সক্ষমতা বৃদ্ধি—সবক্ষেত্রেই ফ্রান্স ভারতের পাশে থাকার অঙ্গীকার করেছে।
এক নজরে প্রতিরক্ষা চুক্তির মূল পয়েন্ট
- মোট ১১৪টি রাফাল: বায়ুসেনার শক্তি বাড়াতে বিপুল পরিমাণ যুদ্ধবিমান ক্রয়ের সবুজ সংকেত।
- প্রযুক্তি হস্তান্তর: ভারতের মাটিতেই তৈরি হবে অধিকাংশ যুদ্ধবিমান ও সাবমেরিন।
- কৌশলগত অংশীদারিত্ব: ভারত ও ফ্রান্সের সম্পর্ককে ‘বিশেষ গ্লোবাল স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ’-এর মর্যাদা দান।
- সাবমেরিন শক্তি: তিনটি নতুন স্করপিয়ান ক্লাসের ডুবোজাহাজ তৈরিতে ফরাসি সহযোগিতা।
ভারতের প্রতিরক্ষা খাতের এই বিশাল উল্লম্ফন কেবল দক্ষিণ এশিয়ায় নয়, বরং সমগ্র বিশ্বের ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে দিতে চলেছে।