বোতলের একটা স্ক্যানেই ফাঁস হবে জাল মদের কারসাজি! চোরাকারবার রুখতে রাজ্য আবগারি দফতরের মাস্টারস্ট্রোক
মদ আসল না কি নকল, তা নিয়ে সুরাপ্রেমীদের দুশ্চিন্তা এবার চিরতরে দূর হতে চলেছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য থেকে শুরু করে ওষুধ— ভেজালের থাবা থেকে বাদ যাচ্ছে না কিছুই। এমনকি মদের বাজারেও জাল কারবারিদের দাপাদাপি রুখতে হিমশিম খেতে হচ্ছিল প্রশাসনকে। মাঝেমধ্যেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে হানা দিয়ে অসাধু চক্রের পান্ডাদের গ্রেফতার করা হলেও, এই চক্রকে পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব হয়নি। এবার সেই জাল মদের কারবারিদের জালে আটকাতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ঢাল নিয়ে ময়দানে নামছে রাজ্য আবগারি দফতর।
কিউআর কোডেই লুকিয়ে ম্যাপ
এতদিন পর্যন্ত মদের বোতলের গায়ে থাকা কিউআর (QR) কোড স্ক্যান করলে শুধুমাত্র সেটি কোন ম্যানুফ্যাকচারিং ইউনিটে তৈরি হয়েছে, সেই তথ্যটুকুই পাওয়া যেত। কিন্তু উৎপাদন কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে সেটি কীভাবে দোকানে পৌঁছাল, মাঝপথে কোনো কারচুপি হয়েছে কি না— সেই সংক্রান্ত তথ্যের অভাব ছিল। নতুন ব্যবস্থায় কিউআর কোড স্ক্যান করলেই জানা যাবে বোতলটির সম্পূর্ণ ‘জন্মকুণ্ডলী’। সেটি কোথায় তৈরি হয়েছে থেকে শুরু করে কোন ট্রাকে করে দোকানে এসেছে, সমস্ত তথ্যই থাকবে প্রশাসনের নখদর্পণে।
ট্র্যাকিং ব্যবস্থায় আমূল বদল
নতুন এই নিরাপত্তা ব্যবস্থায় শুধুমাত্র বোতলেই নয়, প্রতিটি মদের পেটির ওপর থাকবে একটি করে স্বতন্ত্র কিউআর কোড। এর পাশাপাশি প্রতিটি বাক্সের নির্দিষ্ট নম্বরের সঙ্গে ডিজিটাল পদ্ধতিতে যুক্ত করা হবে ‘ই-ট্রান্সপোর্ট পাস’। ফলে যে যানে করে মদ সরবরাহ করা হচ্ছে, সেই গাড়ির গতিবিধি এবং যাবতীয় তথ্য মুহূর্তের মধ্যে আবগারি আধিকারিকদের হাতের মুঠোয় চলে আসবে। এই ত্রিস্তরীয় সুরক্ষা বলয় ভেদ করে বাজারে নকল মদ চালানো প্রায় আসাম্ভব হয়ে পড়বে চোরাকারবারিদের পক্ষে।
রাজস্ব বৃদ্ধিতে আশার আলো
আবগারি দফতরের এই কড়া পদক্ষেপের ফলে শুধু যে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষিত হবে তাই নয়, সরকারের কোষাগারেও বড় অঙ্কের রাজস্ব জমা পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। চোরাই পথে আসা মদ বা জাল মদের বিক্রি বন্ধ হলে বৈধ ব্যবসার পরিধি বাড়বে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে আবগারি শুল্ক সংগ্রহে। প্রশাসনিক মহলের মতে, এই হাই-টেক নজরদারি চালু হলে রাজ্যে মদের কালোবাজারি এক ধাক্কায় অনেকটাই কমে আসবে।