আলিমুদ্দিনের বিরুদ্ধে ক্ষোভের আগ্নেয়গিরি, বাম শিবিরের তরুণ তুর্কী প্রতীক উর এবার কোন পথে?

বাম রাজনীতির ময়দানে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের চোখে চোখ রেখে লড়াই করা সেই পরিচিত মুখ আজ বড় একা। গত দেড় বছর ধরে চলা বঞ্চনা আর অপমানের দগদগে ঘা নিয়ে এবার সোজাসুজি দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধেই তোপ দাগলেন সিপিএমের যুব নেতা প্রতীক উর রহমান। তাঁর নিশানায় সরাসরি দলের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। প্রতীকের বিস্ফোরক দাবি, আলিমুদ্দিনের অন্দরে এখন গণতন্ত্র মৃত এবং সেখানে শুধুমাত্র ভয়ের বাতাবরণ তৈরি করে রাখা হয়েছে।
রক্তাক্ত হৃদয়ে বাঁকের মুখে দাঁড়িয়ে প্রতীক
রাজনীতির লড়াইয়ে রক্ত ঝরানো নতুন কিছু নয়, কিন্তু যখন সেই আঘাত নিজের ঘরের লোকেদের কাছ থেকেই আসে, তখন তা সহ্য করা কঠিন হয়ে পড়ে। প্রতীক উর রহমান আক্ষেপের সুরে জানিয়েছেন, গত ১৮ মাস ধরে তিনি যে অবজ্ঞা আর তাচ্ছিল্যের শিকার হয়েছেন, তা আর মুখ বুজে সহ্য করার মতো নয়। তিনি এখন এক কঠিন বাঁকের মুখে দাঁড়িয়ে। এই মোড় ঘোরার পরেই তাঁর সামনে কী অপেক্ষা করছে— কোনো মসৃণ পথ নাকি গভীর খাদ— তার উত্তর মিলবে খুব শীঘ্রই। তবে প্রতীকের কথা থেকে স্পষ্ট, দীর্ঘদিনের লাল ঝান্ডার সেনানী এবার হয়তো বিকল্প কোনো কথা ভাবছেন।
মহম্মদ সেলিমের বিরুদ্ধে স্বৈরাচারের অভিযোগ
একসময়ের লড়াকু এই বাম নেতার সমস্ত ক্ষোভ গিয়ে আছড়ে পড়েছে মহম্মদ সেলিমের ওপর। প্রতীকের অভিযোগ, বর্তমান রাজ্য সম্পাদক নিজের ব্যক্তিগত স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য দলের ভাবমূর্তিকে ব্যবহার করছেন। এমনকি হোল-টাইমারদের বাড়িতে উনুন জ্বলছে কি না, সেই খবর রাখার প্রয়োজনটুকুও বর্তমান নেতৃত্ব মনে করে না। সূর্যকান্ত মিশ্রের জমানায় দলের ভেতরে যে সুস্থ গণতান্ত্রিক পরিবেশ ছিল, আজ তা সম্পূর্ণ ধূলিসাৎ বলে দাবি করেছেন তিনি।
বিচ্ছেদের সুর কি সময়ের অপেক্ষা
যে ছেলেটি ‘বিপ্লব দীর্ঘজীবী হোক’ স্লোগান দিয়ে ময়দান কাঁপাতেন, আজ তাঁর গলায় শুধুই অভিমান আর একরাশ বিতৃষ্ণা। দলের অন্দরে কোণঠাসা হতে হতে প্রতীক আজ দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার মতো অবস্থায়। তাঁর এই ‘রক্তাক্ত’ হওয়ার বয়ান এবং ‘বাঁকের মুখে’ দাঁড়িয়ে থাকার ইঙ্গিত রাজনৈতিক মহলে নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছে। বামেদের এই তরুণ তুর্কী কি তবে লাল ঝান্ডা ছেড়ে অন্য কোনো রঙের ছাতার তলায় আশ্রয় নিতে চলেছেন? নাকি প্রতীকের এই বিদ্রোহ সিপিএমের অন্দরে বড় কোনো রদবদলের ইঙ্গিত? উত্তর এখন সময়ের হাতে।