হাতে আসবে কড়কড়ে নোট! ভোটের আগেই খুশির জোয়ারে ভাসছেন রাজ্যের শিক্ষক-শিক্ষিকারা

হাতে আসবে কড়কড়ে নোট! ভোটের আগেই খুশির জোয়ারে ভাসছেন রাজ্যের শিক্ষক-শিক্ষিকারা

রাজ্যের হাজার হাজার শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের জন্য দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে এল বড়সড় সুখবর। লোকসভা নির্বাচনের দামামা বাজার আগেই এক ধাক্কায় ১০ শতাংশ বকেয়া ডিএ বা মহার্ঘ ভাতা মেটানোর সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার। স্কুল শিক্ষা দপ্তরের সাম্প্রতিক এই নির্দেশিকায় স্বাভাবিকভাবেই খুশির হাওয়া শিক্ষা মহলে।

বকেয়া মিটিয়ে দেওয়ার বড় ঘোষণা

রাজ্য সরকারের পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী, ২০২৪ ও ২০২৫ সাল মিলিয়ে মোট ২০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা বৃদ্ধির কথা ছিল। এর মধ্যে ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে প্রথম দফায় ১০ শতাংশ ডিএ দেওয়া হয়েছিল। বাকি থাকা ১০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা ফেব্রুয়ারি মাসে মিটিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল সরকার, যা বাস্তবায়িত হতে চলেছে। স্কুল শিক্ষা দপ্তরের নয়া বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সরকারি ও সরকার পোষিত স্কুলের পাশাপাশি সংস্কৃত টোলের শিক্ষকরাও এই বর্ধিত ভাতার সুবিধা পাবেন।

এক লাফে বাড়বে ডিএ-র হার

নতুন এই ১০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা যুক্ত হওয়ার ফলে বেতন কাঠামোয় বড় পরিবর্তন আসতে চলেছে। রোপা-২০০৯ অনুযায়ী বেতনভুক্ত শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের মোট ডিএ-র পরিমাণ ১৬১ শতাংশ থেকে বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ১৭১ শতাংশে। নির্দেশিকা অনুযায়ী, এই বর্ধিত ভাতা ২০২৫ সালের এপ্রিল মাস থেকে কার্যকর ধরা হবে। ফলে শিক্ষকরা শুধুমাত্র বাড়তি বেতনই পাবেন না, সেই সঙ্গে বিগত এক বছরের বকেয়া বা এরিয়ার্সও এক লপ্তে হাতে পাবেন।

বঞ্চিত শিক্ষক ও কর্মীদের স্বস্তি

রাজ্যের এমন অনেক স্কুল রয়েছে যারা সরকারের কাছ থেকে শুধুমাত্র মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ পায়, আর মূল বেতন দেয় স্কুল পরিচালন সমিতি। সেই সব স্কুলের শিক্ষকদের কাছে এই বকেয়া ডিএ প্রাপ্তি অত্যন্ত স্বস্তিদায়ক হতে চলেছে। দীর্ঘ এক বছর ঝুলে থাকার পর ভোটের ঠিক মুখে এই পাওনা মেটানোয় আর্থিক স্বচ্ছলতা ফিরবে বহু পরিবারে।

আইনি জটিলতার আবহ

শিক্ষকদের জন্য খুশির খবর থাকলেও রাজ্য সরকারি কর্মীদের বড় অংশের মধ্যে এখনও ক্ষোভ ও উদ্বেগ বজায় রয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট দ্রুত ২৫ শতাংশ বকেয়া ডিএ মেটানোর নির্দেশ দিলেও নবান্নের তরফ থেকে এখনও কোনো ইতিবাচক পদক্ষেপ দেখা যায়নি। এই নীরবতার প্রতিবাদে রাজ্য সরকারি কর্মীদের সংগঠন ‘ইউনিটি ফোরাম’ ইতিমধ্যেই নবান্নে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছে। একদিকে শিক্ষকদের বকেয়া মেটানোর তৎপরতা এবং অন্যদিকে সরকারি কর্মীদের আইনি লড়াই— সব মিলিয়ে ডিএ ইস্যু এখন রাজ্য রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *