সিএএ-র ভাগ্য নির্ধারণ করবে সুপ্রিম কোর্ট, ৫ মে থেকে শুরু হচ্ছে হাইভোল্টেজ শুনানি

২০১৯ সালে সংসদ থেকে পাশ হওয়ার পর থেকেই দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করেছিল নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বা সিএএ। এবার সেই বিতর্কিত আইনের সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে চূড়ান্ত লড়াই শুরু হতে চলেছে দেশের শীর্ষ আদালতে। আগামী ৫ মে থেকে সুপ্রিম কোর্ট এই সংক্রান্ত একগুচ্ছ পিটিশনের শুনানি শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়াচ্ছে।
আইনি লড়াইয়ের প্রেক্ষাপট ও আবেদনকারীদের অবস্থান
নরেন্দ্র মোদী সরকারের আনা এই আইনের বিরুদ্ধে প্রথম থেকেই সরব হয়েছে দেশের একাধিক রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠন। সুপ্রিম কোর্টে দায়ের হওয়া ১৪০টিরও বেশি পিটিশনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য আবেদনকারীরা হলেন:
- ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লীগ (আইইউএমএল)
- তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র ও কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ
- এআইএমআইএম প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়াইসি
- কেরল সরকার ও আসাম অ্যাডভোকেটস অ্যাসোসিয়েশন
আবেদনকারীদের মূল অভিযোগ হলো, সিএএ সংবিধানের ১৪ নম্বর অনুচ্ছেদে বর্ণিত ‘সাম্যের অধিকার’ লঙ্ঘন করছে। তাঁদের দাবি, ধর্মের ভিত্তিতে নাগরিকত্ব প্রদান ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ কাঠামোর পরিপন্থী এবং এটি নির্দিষ্ট কিছু সম্প্রদায়ের প্রতি বৈষম্যমূলক।
কেন এই আইন নিয়ে এত বিতর্ক?
২০১৯ সালের ডিসেম্বরে পাশ হওয়া এই আইনে বলা হয়েছে, ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার হয়ে ভারতে আসা হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি ও খ্রিস্টান শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে।
বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু মূলত দুটি জায়গায়:
১. মুসলিম শরণার্থীদের বর্জন: সমালোচকদের মতে, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের আহমদিয়া বা মায়ানমারের রোহিঙ্গাদের মতো নিপীড়িত মুসলিমদের এই আইনের বাইরে রাখা হয়েছে।
২. আঞ্চলিক সমস্যা: শ্রীলঙ্কার নির্যাতিত তামিল হিন্দু ও খ্রিস্টানদের নাগরিকত্বের বিষয়েও এই আইনে কোনো স্পষ্ট দিশা নেই।
কেন্দ্রের পাল্টা যুক্তি ও আদালতের ভূমিকা
কেন্দ্রীয় সরকার ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা দিয়ে জানিয়েছে যে, সিএএ কোনো ভারতীয় নাগরিকের মৌলিক অধিকার খর্ব করে না। এটি একটি বিশেষ পরিস্থিতিতে তৈরি আইন, যা শুধুমাত্র প্রতিবেশী দেশ থেকে আসা শরণার্থীদের আইনি সুরক্ষা দেওয়ার জন্য তৈরি। ২০২২ সালে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ইউইউ ললিতের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এই আইনের ওপর স্থগিতাদেশ দিতে অস্বীকার করেছিল।
আগামী ৫ মে থেকে শুরু হতে চলা এই শুনানি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ আবেদনকারীদের যুক্তি এবং কেন্দ্রের আত্মপক্ষ সমর্থন খতিয়ে দেখে স্থির করবে যে, সিএএ আদতে সংবিধানসম্মত কি না। আদালতের এই রায়ের ওপর নির্ভর করছে লক্ষ লক্ষ শরণার্থীর ভবিষ্যৎ এবং দেশের নাগরিকত্ব নীতির গতিপ্রকৃতি।