মাত্র ৩০ হাজার টাকা বেতন থেকেই কি কোটিপতি হওয়া সম্ভব? জেনে নিন ইপিএফ জমানোর আসল ম্যাজিক

মাত্র ৩০ হাজার টাকা বেতন থেকেই কি কোটিপতি হওয়া সম্ভব? জেনে নিন ইপিএফ জমানোর আসল ম্যাজিক

চাকরিজীবীদের জন্য অবসর জীবনের বড় সম্বল হলো এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড বা ইপিএফ। কিন্তু অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে, সাধারণ বেতন থেকে কি আদেও কোটি টাকার তহবিল গড়া সম্ভব? উত্তরটা কিন্তু ইতিবাচক। সঠিক পরিকল্পনা এবং সময়ের হিসাবে আপনার সামান্য সঞ্চয়ই ভবিষ্যতে বিশাল আকার ধারণ করতে পারে।

২৫ বছরে কোটিপতি হওয়ার সমীকরণ

ধরুন, আপনার বর্তমান মাসিক বেতন ৩০,০০০ টাকা। প্রতি বছর যদি আপনার বেতন গড়ে ৮ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পায় এবং ইপিএফ-এ বর্তমান ৮.২৫ শতাংশ হারে সুদ বজায় থাকে, তবে ২৫ বছর পর আপনার জমানো অর্থের পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ১.১১ কোটি টাকা। চক্রবৃদ্ধি হারের জাদুতে আপনার মাসিক সামান্য অবদানই দীর্ঘমেয়াদে এই বিশাল অঙ্কে পৌঁছাতে সাহায্য করে।

বেতন বেশি হলে প্রাপ্তি আরও আকাশচুম্বী

যাঁদের প্রাথমিক বেতন একটু বেশি, তাঁদের জন্য অঙ্কটা আরও চমকপ্রদ। যদি আপনার বেতন ৫০,০০০ টাকা হয় এবং বার্ষিক ১০ শতাংশ হারে ইনক্রিমেন্ট পান, তবে ২৫ বছর শেষে আপনার ইপিএফ ব্যালেন্স গিয়ে ঠেকতে পারে প্রায় ২.৩৬ কোটি টাকায়। অর্থাৎ, কোনো বাড়তি ঝুঁকি না নিয়ে শুধুমাত্র নিয়মিত সঞ্চয়ের মাধ্যমেই আপনি দুই কোটির বেশি টাকার মালিক হতে পারেন।

কেন ইপিএফ সেরা বিনিয়োগ

  • বাধ্যতামূলক সঞ্চয়: বেতন থেকে নির্দিষ্ট অংশ সরাসরি কেটে নেওয়া হয় বলে সঞ্চয়ে অনিয়ম হওয়ার সুযোগ থাকে না।
  • কর ছাড়: আয়কর আইনের ৮০সি ধারা অনুযায়ী এই বিনিয়োগে কর সাশ্রয়ের সুবিধা পাওয়া যায়।
  • স্থির রিটার্ন: শেয়ার বাজারের ওঠানামা থাকলেও ইপিএফ-এর সুদের হার সাধারণত স্থিতিশীল থাকে, যা বিনিয়োগকে সুরক্ষিত রাখে।
  • চক্রবৃদ্ধির সুবিধা: যত বেশি সময় টাকা জমা থাকবে, সুদের ওপর সুদ মিলে তহবিলের আকার তত দ্রুত বাড়বে।

মাথায় রাখুন এই বিষয়টিও

ইপিএফ অবশ্যই একটি শক্তিশালী ভিত্তি, তবে মুদ্রাস্ফীতি ও ভবিষ্যৎ বাজারদরের কথা মাথায় রেখে এর পাশাপাশি অন্যান্য বিনিয়োগের দিকেও নজর দেওয়া জরুরি। তবে ধৈর্য এবং শৃঙ্খলা বজায় রেখে ২৫ বছর বিনিয়োগ চালিয়ে গেলে ইপিএফ-এর মাধ্যমেই কোটিপতি হওয়া এখন আর কোনো অলীক স্বপ্ন নয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *